Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

ফের রক্তাক্ত ছত্তিশগড়, মাওবাদী বিস্ফোরণে ৮ জওয়ান সহ হত ৯

ফের রক্তাক্ত ছত্তিশগড়, মাওবাদী বিস্ফোরণে ৮ জওয়ান সহ হত ৯
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
দান্তেওয়াড়া: টার্গেট ২০২৬-এর মার্চ। ভারত হবে মাওবাদী-মুক্ত! চার মাস আগে বুক ঠুকে ঘোষণা করেছেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারপরই গতি বেড়েছে মাওবাদী দমন অভিযানের। গত রবিবার ছত্তিশগড়ের অবুঝমাড় এলাকায় অপারেশন চালিয়ে পাঁচ মাওবাদীকে নিকেশ করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অপারেশন শেষে সোমবার দুপুরে দান্তেওয়াড়ার বেস ক্যাম্পে ফেরার পথেই এল প্রত্যাঘাত। বিজাপুরের কুটরুতে রাস্তায় পাতা ছিল ‘ফাঁদ’। সেখানে পৌঁছনোমাত্র আইইডি বিস্ফোরণে বাহিনীর গাড়ি উড়িয়ে দিল মাওবাদীরা। মৃত্যু হল আট জওয়ান ও এক গাড়িচালকের। মোদি সরকার মাওবাদীদের নির্মূল করার ব্যাপারে যতই আস্ফালন করুক না কেন, বাস্তব পরিস্থিতি যে একেবারে আলাদা তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল বস্তার ডিভিশন। এদিনের হামলার পরও সেই একই বয়ান দিয়েছেন শাহ। এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘ছত্তিশগড়ের ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারের পাশে আছি। জওয়ানদের এই আত্মবলিদান বৃথা যাবে না। ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে আমরা দেশের মাটি থেকে মাওবাদীদের নিশ্চিহ্ন করবই।’ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাঁইও ঘটনার নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছেন। অমিত শাহের সুরে সুর মিলিয়ে সাফ জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে বস্তারের মাওবাদী অধ্যুষিত পাঁচটি এলাকায় সম্পূর্ণরূপে শান্তি ফিরে আসবে বলেই তিনি আশাবাদী।
Advertisement
বস্তারের আইজি সুন্দররাজ পাট্টিলিঙ্গম জানিয়েছেন, নিহত জওয়ানরা মাওবাদী দমন অভিযানে বিশেষভাবে দক্ষ ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ডে (ডিআরজি) কর্মরত ছিলেন। গত দু’-তিনদিন ধরে ওই এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিল ওই ডিআরজি টিম। রবিবার অবুঝমাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় দুই মহিলা সহ পাঁচ মাওবাদীর। উদ্ধার হয় প্রচুর অস্ত্রশস্ত্রও। জানা গিয়েছে, সেই অভিযান সম্পন্ন করেই একটি এসইউভি গাড়িতে দান্তেওয়াড়ার বেস ক্যাম্পে ফিরছিলেন ওই জওয়ানরা। দুপুর আড়াইটে নাগাদ তাঁরা বিজাপুরের কুটরুতে পৌঁছতে বিস্ফোরণ ঘটে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, কোথায় গলদ ছিল, তা খুঁজতে তদন্ত শুরু হয়েছে। 
ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় বিরাট গর্ত তৈরি হয়েছে। বাহিনীর গাড়িটিও সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। বনেটটি পার্শ্ববর্তী গাছের মগডাল ঝুলছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলার জন্য ‘ফক্স হোল’ পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল মাওবাদীরা। অর্থাৎ, ওই রাস্তায় একটি বড় গর্ত তৈরি করে সেটিকে পাথর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ভিতরে কোনও বিস্ফোরক না থাকায় অ্যান্টি-মাইন অভিযানে লাভ হয়নি। পরে সঠিক সময় বুঝে ওই গর্তে আইইডি রেখে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।  
সম্পর্কিত সংবাদ