Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফিফার অফিসিয়াল পেজে ফড়িয়াপুকুরের ছবি, স্বপ্নের মতো, বলছেন বাসিন্দারা

ফিফার অফিসিয়াল পেজে ফড়িয়াপুকুরের ছবি দেখে আপ্লুত স্থানীয়রা। ফুটবল সংস্কৃতির উজ্জ্বল উদাহরণ। বিস্তারিত পড়ুন।

ফিফার অফিসিয়াল পেজে ফড়িয়াপুকুরের ছবি, স্বপ্নের মতো, বলছেন বাসিন্দারা
  • ২৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত কয়েকদিন ধরে ভিড় জমছে শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ের কাছে ফড়িয়াপুকুরে। দেদার ছবি তোলা হচ্ছে, ফুটবল মাথায় নিয়ে চলছে খেলা। বিশ্বকাপের ক’দিন ফড়িয়াপুকুর কলকাতা ও শহরতলির মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। এবার সবকিছু ছাপিয়ে হয়ে গিয়েছে বিশ্বজনীন। কেন এত ভিড়? ওই পাড়ায় তিনমাথার মোড়ে টাঙানো হয়েছে ফুটবল খেলিয়ে দেশের ছোটো আকারের অজস্র পতাকা। রয়েছে মেসি-নেইমার-ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর কাটআউট। দেওয়ালে বিশ্বকাপ সম্পর্কিত চোখ ধাঁধানো মুরাল। ফিফা বিশ্বকাপের সামাজিক মাধ্যমের অফিশিয়াল পেজ থেকে এই পাড়ার সাজসজ্জা পৃথিবীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। তারপর পাড়ার বাসিন্দারা আপ্লুত। তাঁরা বলছেন, ‘স্বপ্নের মতো লাগছে।’

Advertisement

বুধবার লিওনেল মেসির জন্মদিনও পালন করা হয়েছে সেখানে। মেসির মুখোশ পরে হাজির ছিলেন একাধিক ফুটবলপ্রেমী। কেক কাটা হয়েছে। মেসি ভক্তদের হাতে পরানো হয়েছে ব্যান্ড। তাতে লেখা ‘আই অ্যাম মেসি’। ধরে নেওয়া যায়, মেসি-রোনাল্ডো-নেইমারের এটাই শেষ বিশ্বকাপ। গোটা ফড়িয়াপুকুর এই ফুটবল শিল্পীদেরই কার্যত উত্সর্গ করে সাজানো হয়েছে। পাড়া সাজানোর উদ্যোগ নেয় গণপতি সেবা দল নামে একটি ক্লাব। তার কর্মকর্তা বিমল সিং বলেন, ‘আমরা ২০১০ সাল থেকে বিশ্বকাপের সময় পাড়া সাজাচ্ছি। এবার হঠাত্ মানুষের নজরে এসেছে। আমরা ফাইনাল, সেমি ফাইনাল দেখানোর পরিকল্পনা করছি এবার। দল বেধে সবাই খেলা দেখব।’ এই পাড়ার জনা বিশেক ফুটবলপ্রেমী গোটা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। পাড়ার কয়েকজন আর্ট কলেজের পড়ুয়া আছেন। তাঁরা খেলোয়াড়দের ছবি এঁকে দিয়েছিলেন। বিমল বলেন, ‘অনেকেই চাকরি করেন। আমরা সকলে মিলে অফিস থেকে ফিরে ছবি আঁকার কাজ করতাম। যাঁদের বাড়ির দেওয়ালে ছবি আঁকা হয়েছিল তাঁরাও খুব সাহায্য করেছেন। আমাদের উত্সাহ দিয়েছেন।’
তাঁদের সমস্ত পরিশ্রম চূড়ান্ত স্বার্থকতা পেয়েছে যখন ফিফার কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়া গেল তখন। এলাকার লোকজন ভাবতেই পারেননি যে, একেবারে ফিফার পেজ থেকে তাঁদের এই কর্মকাণ্ড গোটা বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে। বিমলের কথায়, ‘এটা ভাবতেই পারিনি। আমরা তো কেউই জানতাম না। আচমকা দেখছি ফিফার পেজে আমাদের পাড়ার ছবি জ্বলজ্বল করছে। দেখে স্বপ্নের মতো লাগছে। যেদিন ভারত বিশ্বকাপ খেলবে, ওইদিন আরও আনন্দ পাব। সেদিন আমাদের অধরা সব স্বপ্ন সফল হবে।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ