লখনউ: মালা বদল থেকে সাত পাক, সবকিছুই ঠিকঠাক মিটেছিল। কিন্তু গোল বাঁধল ফুলশয্যার রাতে। নববধূর আবদার শুনে চক্ষু চড়কগাছ বরের। মুখ দেখতে গেলে নাকি দিতে হবে বিয়ার, গাঁজা। সেইসঙ্গে পাঁঠার মাংসও দিতে হবে বলে বরকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন স্ত্রী। সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর এমন ‘অনুরোধে’ পায়ের তলার মাটি সরে যায় বরের। পরে এনিয়ে শুরু হয় তুমুল অশান্তি। শেষে থানা পর্যন্ত গড়ায় বিষয়টি। রাগে বিয়ে ভেঙে দেন বর। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে খবর, কনে পাঞ্জাবের লুধিয়ানার বাসিন্দা। অপরদিকে পাত্রের বাড়ি সাহারানপুরে। গত সোমবার ধুমধাম করে বিয়ে হয় তাঁদের। বুধবার ফুলশয্যার রাতেই ঘটে যত বিপত্তি। আর্জি মানলে মুখ দেখতে দেবেন স্ত্রী, এমন শর্তে রাজি হন স্বামী। স্ত্রী প্রথমে তাঁর কাছে বিয়ারের আর্জি জানায়। এমন আব্দার শুনে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যান বর। যাই হোক শেষ পর্যন্ত বিয়ারের ব্যবস্থাও করে ফেলেন তিনি। কিন্তু এরপরে স্ত্রী গাঁজা ও পাঠার মাংস খেতে চেয়ে স্বামীর কাছে অনুরোধ করেন। কিন্তু শত চেষ্টা করেও গাঁজা আর পাঁঠার মাংস জোগাড় করতে পারেননি সদ্য বিবাবিত যুবক। তিনি বুঝে যান তাঁর স্ত্রী নেশা করেন এবং তৃতীয় লিঙ্গের। স্ত্রীর আর্জি পূরণ না হওয়ায় দু’জনের মধ্যে তুমুল অশান্তি শুরু হয়। ফুলশয্যার রাত কার্যত বিভীষিকায় পরিণত হয় যুবকের কাছে। দু’জনের মধ্যে অশান্তি শুনে টের পেয়ে যান পরিবারের অন্য সদস্যরা। তাঁর স্ত্রী তৃতীয় লিঙ্গের বলে দাবি করেন যুবক। পরের দিন কনে পক্ষের সঙ্গেও বর পক্ষের তুমুল অশান্তি বাধে। শেষ পর্যন্ত সাহারানপুর থানার দ্বারস্থ হয় উভয় পরিবার। ওই তরুণী তৃতীয় লিঙ্গের হওয়া সত্ত্বেও আগাম না জানিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে যুবকের পরিবারের অভিযোগ। এনিয়ে কোনও অভিযোগ দায়ের না হলেও, পুলিসের তরফে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত কনের সঙ্গে সংসার করতে রাজি হননি বর। বিয়ে ভেঙে দেন তিনি।



