Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ল ৩ টাকা, ৪৩ লক্ষ কোটির মুনাফা: কংগ্রেস

জল্পনাই অবশেষে সত্যি হল। পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যের ভোট মিটতেই শুক্রবার পেট্রল-ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় ৩ টাকা বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র।

পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ল ৩ টাকা, ৪৩ লক্ষ কোটির মুনাফা: কংগ্রেস
  • ১৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জল্পনাই অবশেষে সত্যি হল। পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যের ভোট মিটতেই শুক্রবার পেট্রল-ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় ৩ টাকা বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র। দাম বাড়ায় দিল্লিতে এক লিটার পেট্রলের দাম হল ৯৭ টাকা ৭৭ পয়সা। কলকাতায় ১০৮ টাকা ৭৪ পয়সা। মুম্বইয়ে ১০৬ টাকা ৬৮ পয়সা। চেন্নাইয়ে ১০৩ টাকা ৬৭ পয়সা। ডিজেলের দাম হল দিল্লিতে লিটার প্রতি ৯০ টাকা ৬৭ পয়সা। কলকাতায় ৯৫ টাকা ১৩ পয়সা। মুম্বইতে ৯৩ টাকা ২৪ পয়সা। চেন্নাইতে ৯৫ টাকা ২৫ পয়সা। গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন যে, সংকট দোরগোড়ায়। তাই জ্বালানি সমস্যা এড়াতে পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার কমানো, আগামী এক বছর সোনা কেনা বন্ধের নিদানও দিয়েছিলেন। তার ঠিক চারদিনের মাথায় এল দাম বৃদ্ধির ঘোষণা। ভোট মিটতেই এহেন সিদ্ধান্তে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছে কংগ্রেস—‘পেট্রল-ডিজেল থেকে গত ১১ বছরে ৪৩ লক্ষ কোটি টাকা লুট করেছেন নরেন্দ্র মোদি।’ সরব তৃণমূলও। তাদের আক্রমণ, ‘ডবল-ইঞ্জিন’ সরকারকে ভোট দিয়ে জেতানোর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই পেট্রল ও ডিজেলের দাম আবার বাড়িয়ে দেওয়া হল। সাধারণ মানুষ ভোট দিলেন, আর তার বদলে কপালে জুটল চরম ভোগান্তি। বিজেপি-শাসিত রাজ্যে এসব তো সবে শুরু...।’ বিরোধীদের প্রশ্ন, একে সোনা না কেনার পরামর্শে দেশে প্রায় সাড়ে তিন কোটি স্বর্ণ ব্যবসায়ীর হাঁড়িতে টান পড়ার সম্ভাবনা চরমে। এবার জ্বালানির দাম বাড়ায় আলপিন থেকে অ্যাভোকাডো, নিত্যপ্রয়োজনীয় থেকে বিলাসবহুল পণ্য সব কিছু মহার্ঘ হবে। এর দায় কে নেবে?

Advertisement

যদিও সরকারের দোহাই, পশ্চিম-এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই এমন সিদ্ধান্ত। যদিও নিজেদের গা বাঁচাতে এই ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে যে, সরকার নয়, তেল কোম্পানিগুলি দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু সরকারের এই যুক্তি কি আদৌ সংগত? ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। দেশে যে সংকট আসতে চলেছে, সেবিষয়ে গত ৯ মার্চ কেন্দ্রকে সতর্ক করেছিলেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু সামনেই এপ্রিলেই যে ছিল ভোট। তাই কি চুপ ছিল বিজেপি সরকার? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের। এক্স হ্যান্ডলে খোঁচা দিয়েছেন রাহুল গান্ধীও, ‘ভুল করবে মোদি সরকার। আর ফল ভুগতে হবে আম জনতাকে। ৩ টাকা বাড়িয়ে ঝটকা দিয়েছেন। এবার কিস্তিতে আরও দাম বাড়বে।’ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের প্রশ্ন, ‘যখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কম ছিল, তখন কেন সাধারণ মানুষকে কোনো সুরাহা দেয়নি মোদি সরকার? উলটে কর বাবদ আদায় করেছে ৪৩ লক্ষ কোটি টাকা।’ তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের কটাক্ষ, ‘জিত গয়ে বেঙ্গল/অব কর দেঙ্গে কাঙাল।’ 
এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, ২০১৪ সালের ২৬ মে (ইউপিএ আমলে) দিল্লিতে এক লিটার পেট্রলের দাম ছিল ৭১ টাকা ৪১ টাকা পয়সা।  ডিজেল ৫৬ টাকা ৭১ পয়সা। অথচ তখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম  ব্যারেল প্রতি ১০৮ মার্কিন ডলার। পশ্চিম-এশিয়ার যুদ্ধের আগে তা নেমে আসে ৭০ ডলারে। তাও সাধারণ মানুষকে সুরাহা দেয়নি মোদি সরকার। বিজেপির স্টাইল হল, নির্বাচন শেষ হলেই পেট্রল-ডিজেল-রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো। কংগ্রেসের সুরেই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং মমতা ঠাকুর দিল্লিতে সুর চড়িয়েছেন, কেন ভোট মিটলেই মানুষের উপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপাবেন মোদিজি? সংকটে সরকার কেন পাশে থাকবে না?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ