


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চার বছর আটকে থাকার পর শিক্ষা, পূর নিয়োগ এবং সমবায় দুর্নীতির অভিযোগ থাকা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত এবং চার্জশিট পেশের অনুমতি দিল রাজ্য। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্প পত্রে বিজেপির তরফে পরিষ্কার বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় আসলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে একেবারে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে শপথ নেওয়ার চার দিনের মাথায় সংকল্প পূরণের পথে হাঁটলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতিতে জড়িত আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন দিলেন সিবিআইকে।
এবিষয়ে এদিন নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‹বিজেপির সংকল্পপত্রতেও আমরা বলেছিলাম দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চার বছর ধরে সিবিআই এর চারটি মামলা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আটকে রেখেছিলেন। প্রসিকিউশন এবং চার্জশিটের ক্ষেত্রে অনুমোদন। যে সমস্ত দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশে তদন্ত চলছে, তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিটের জন্য রাজ্যকে অনুমোদন নিতে হয়। আজকে আমরা সিবিআইকে তিনটি দপ্তরের আধিকারিক, যাঁরা দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং চার্জশিট পেশের অনুমোদন দিয়ে দিলাম।
এছাড়াও এদিন বিকেলে সমস্ত দপ্তরের সচিবদের নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষা দপ্তরের ইউনিফর্ম বিলির ক্ষেত্রে এবং দমকল দপ্তরে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলেও উষ্মা প্রকাশ করেছেন বলেও সূত্রের খবর। তবে তাঁর সরকার দুর্নীতি প্রসঙ্গে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছেন বলেও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ১৫ জনের মতো বিধায়কও। এদিন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কাজ সুষ্ঠু ভাবে চালাতে দপ্তরের সঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী, রূপা গাঙ্গুলী এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিধায়কদের যুক্ত করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই ভাবে শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন স্বপন দাশগুপ্তের মতো বিধায়করা। স্বাস্থ্যদপ্তরের কাজকর্মের সঙ্গে বিজেপির চিকিৎসক বিধায়কদের যুক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের অন্যতম ডাক্তার ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, আমরা রোগী পরিষেবার উন্নতিতে বেশ কিছু প্রস্তাব স্বাস্থ্যদপ্তরকে জানিয়েছি। তাঁর অন্যতম হলো, পিজির মতো হাসপাতালে বেড পাওয়া নিয়ে যাতে অহেতুক ঘোরাঘুরি করতে না হয়। এজন্য রিয়েল টাইম বেড ভ্যাকেন্সি জানা জরুরি। সব সরকারি হাসপাতালে কখন কী বেডের অবস্থা জানাতে ডিসপ্লে বোর্ডগুলো চালু করতে হবে। এছাড়াও ডাক্তারদের পোস্টিং মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে করতে হবে। সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য আমরা শীঘ্রই স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসছি। যা হবে, তা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার পরই।
আবার এই বৈঠকেই রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্বে থাকা আইএএস অফিসার নন্দিনী চক্রবর্তীকে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর সম্পূর্ণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জল জীবন মিশনের কাজের গুণমান বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র শিল্প দপ্তরে পরে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ২৫ লক্ষ আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ইচ্ছামতো খরচেও লাগাম টানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অর্থদপ্তরকে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তরকে রাজ্যের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির দিকেও নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।