Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পঞ্চায়েতেও এবার ‘এফএআর’ মেনে বাড়ি তৈরি করার অনুমতি, বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষমতা মহকুমা শাসককে

পঞ্চায়েত এলাকার জন্য নয়া বিল্ডিং রুল নিয়ে আসতে চলেছে নবান্ন। ‘পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত-গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ- বিল্ডিং অপারেশন রুলস ২০২৫’ লাগু হলে রাজ্যের পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি ও অন্যান্য নির্মাণে অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বিধি বলবৎ হবে।

পঞ্চায়েতেও এবার ‘এফএআর’ মেনে বাড়ি তৈরি করার অনুমতি, বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষমতা মহকুমা শাসককে
  • ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: পঞ্চায়েত এলাকার জন্য নয়া বিল্ডিং রুল নিয়ে আসতে চলেছে নবান্ন। ‘পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত-গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ- বিল্ডিং অপারেশন রুলস ২০২৫’ লাগু হলে রাজ্যের পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি ও অন্যান্য নির্মাণে অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বিধি বলবৎ হবে। এই ধরনের বিধি না থাকায় এতদিন (মূলত শহর লাগোয়া পঞ্চায়েত এলাকায়) বাড়ি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে মনে করছে নবান্ন। এই বিধিতে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল, এবার পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও চালু হবে ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিয়ো’ বা এফএআর ব্যবস্থা। এতদিন মূলত এই নিয়ম মেনে চলতে হত পুর এলাকায়। নির্মাণে অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুতি ঘটলে মহকুমাশাসক নোটিস দিয়ে সেই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিতে পারবেন বলেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।  

Advertisement

কী এই এফএআর? একটি জমির মোট আয়তনের তুলনায় সেই জমিতে সব তল মিলিয়ে মোট কতটা নির্মাণ করা যাবে, তার অনুপাতকে বলা হয় এফএআর। জমির সামনের রাস্তার মাপের উপরও নির্ভর করে এই এফএআর। ধরা যাক, একজনের ১০০০ বর্গফুট জমির ক্ষেত্রে যদি দুই এফএআর নির্ধারিত হয়, তাহলে ওই জমির উপর সব তল মিলিয়ে মোট ২০০০ বর্গফুট নির্মাণ করা যাবে। পঞ্চায়েত এলাকার জন্য তৈরি বিধির খসড়া অনুযায়ী, পাহাড় এবং সমতলের জন্য আলাদা নিয়ম রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সমতলে ২.৪ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত রাস্তার ক্ষেত্রে আবাসিক ভবনের সর্বোচ্চ এফএআর ০.৭৫, রাস্তার প্রস্থ ২.৪ মিটার থেকে ৩.৫ মিটার পর্যন্ত হলে ১.২৫, ৩.৫ থেকে ৭ মিটার চওড়া রাস্তার ক্ষেত্রে ১.৭৫ এবং ৭ থেকে ৯ মিটার রাস্তার ক্ষেত্রে এফএআর হবে ২। ৯ থেকে ১৫ মিটার রাস্তার ক্ষেত্রে অনুপাত ২.২৫, ১৫ থেকে ২০ মিটার রাস্তার ক্ষেত্রে ২.৫০ এবং ২০ থেকে ২৪ মিটার রাস্তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২.৭৫ করার প্রস্তাব রয়েছে। 
২ থেকে ২.৪ মিটার রাস্তার ক্ষেত্রে ভবনের সর্বোচ্চ উচ্চতা হবে ৬.৫ মিটার। রাস্তার প্রস্থ ২.৪ থেকে ৩ মিটার হলে তা বেড়ে ৯.৫ মিটার হবে। একই সঙ্গে জমির কত শতাংশ অংশে ভবন তৈরি করা যাবে, তাও নির্ধারণ করা হচ্ছে নয়া রুলে। আবাসিক ও শিক্ষা সংক্রান্ত ভবনের ক্ষেত্রে ২০০ বর্গমিটার পর্যন্ত জমিতে সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ জমি নির্মাণের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। ২০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটার জমির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে অনুপাত নির্ধারণ করা হবে। ৫০০ বর্গমিটারের বেশি জমির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ জমিতে নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার জন্য নিয়ম কিছুটা আলাদা। 
শিল্প স্থাপনের জন্য নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদন দেবে শিল্প উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, নিগম অথবা রাজ্য সরকার নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যে বাড়ি বা আবাসনে প্রতিদিন ৫০ হাজার লিটার বা তার বেশি বর্জ্য জল তৈরি হবে, সেখানে তার পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার বর্গমিটার বা তার বেশি এলাকাজুড়ে কোনো প্রকল্পে অন্তত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জমি সবুজায়নের জন্য রাখতে হবে। বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতেই এই রুল আনা হচ্ছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ