


নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুরের সময় পাকিস্তানের মুরিদ বিমানঘাঁটি নিশানা করেছিল ভারতীয় সেনা। ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বড়োসড়ো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল ওই পাক ঘাঁটির। পরে সেই ক্ষত মেরামতের কাজ শুরু করেছিল শাহবাজ শরিফ সরকার। কিন্তু মেরামতি আর সম্ভব হল না। ১০ মাস পর এব্যাপারে হাল ছাড়ল পাকিস্তান।
গত ডিসেম্বর থেকে ত্রিপলের শামিয়ানা খাটিয়ে ওই ঘাঁটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতির কাজ শুরু করেছিল পাক বায়ুসেনা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, সেখান থেকে ত্রিপল সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ওই অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে লাল রঙের ধ্বংসস্তূপ। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষক ডামিয়েন সাইমন বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক ছবিগুলি থেকে প্রমাণিত হয়েছে, ওই বিমান ঘাঁটির ভবনটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছে।’ ডামিয়েন আরও বলেন, ‘ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবনটির ভিতরের অংশেও স্থায়ী ক্ষতি হয়েছিল। তাই সেটি মেরামতির অযোগ্য হয়ে পড়েছে।’ গত ১০ মে পাকিস্তানের মোট ১০টি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারত। তার মধ্যে অন্যতম মুরিদ বিমানঘাঁটি। সূত্রের খবর, এই বিমানঘাঁটিতেই ছিল পাকিস্তানের ড্রোন বাহিনীর কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল দপ্তর। উপগ্রহ চিত্র থেকে স্পষ্ট, ভবনের বাইরের অংশেই শুধু বিস্ফোরণ ঘটেনি। ছাদ ফুঁড়ে ভবনের অন্দরেও বড়োসড়ো ক্ষতি করেছিল ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র। ঠিক কী ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু
জানায়নি ভারত। তবে ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, এসসিএএলপি এয়ার টু সারফেস প্রিসিশন মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রায় সাড়ে ৪০০ কেজি ওজনের এসসিএএলপি একটি
মাল্টি-স্টেজ পেনিট্রেটর সিস্টেম। প্রাথমিকভাবে লক্ষ্যবস্তুর বাইরের অংশে বিস্ফোরণে ভিতরে প্রবেশের পথ তৈরি হয়। ভিতরে ঢোকার পর বিস্ফোরণ ঘটে মূল বিস্ফোরকে। যার ফলে অভ্যন্তরীণ ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়।