সংবাদদাতা, আরামবাগ: প্রশাসনিক বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আরামবাগ শহরের বুকে টোটোর দাপট দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে শহরের বুকে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা বলেন, বর্তমানে আরামবাগ শহরে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাড়িয়েছে টোটো। যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা হলেও আরামবাগের মতো ছোটো শহরে মাত্রারিক্ত টোটো চলাচল করায় নিত্যদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তৃণমূলের আমলে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে প্রশাসন টোটো গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়মকানুন তৈরি করেছিল। কিন্তু, সেই নিয়মকানুন কে কতটা মানছে, তা দেখার জন্য তেমন কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রশাসনিক বিধি নিষেধকে তোয়াক্কা না করে শহরের বুকে টোটোদের দাপট এখনো চলছেই। তবে, এবিষয়ে আরামবাগ পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর ভাণ্ডারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর মোবাইল সুইচড অব থাকায় কোনো রকম বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, এই বিষয়ে পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক তথা আরামবাগের বিজেপি নেতা বিমান ঘোষ বলেন, আরামবাগের যানজট কমাতে আমরা টোটো চালকদের নিয়ে একটি মিটিংয়ে বসব। যাতে আরামবাগবাসীর যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো রকম সমস্যার মধ্যে না পড়তে হয়, সেই দিক ভালভাবে দেখা হবে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলি জেলার মধ্যে আরামবাগ শহর ছোটো হলেও এই শহরে জনঘনত্ব অনেক বেশি। আরামবাগ শহরটি অন্যান্য শহরের থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাস্তাঘাটে মানুষের যাতায়াতের সংখ্যাও বেশি। রিকশ চলাচলের আমলে এমনিতেই আরামবাগ শহরে অফিস টাইমে যানজট হত। বর্তমানে টোটো চলাচলের ফলে সেই যানজট দ্বীগুণ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে আরামবাগ শহরে প্রায় হাজার অধিক টোটো চলাচল করছে। শহরের বেকার যুবকের সঙ্গে শহর লাগোয়া গ্রামগুলি থেকেও বহু যুবক শহরের মধ্যে টোটোচালিয়ে টাকা উপার্জন করছেন। ফলে আরামবাগ শহরে টোটোর দৌরাত্ম্যে যাতায়াতের গতি ক্রমশ কমে গিয়েছে। তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। হয়রানির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় মানুষজন। এই সমস্য কাটিয়ে ওঠার জন্য তৃণমূলের আমলে আরামবাগ মহকুমা শাসক কার্যালয়ে টোটো চালকদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন, তৎকালীন আরামবাগ মহকুমা শাসক প্রীতি গোয়েল, তৎকালীন আরামবাগ পৌরসভার চেয়ারম্যান স্বপন নন্দী। ওই বৈঠকে ঠিক হয়েছিল আরামবাগ লিঙ্ক রোডে টোটো চলানো যাবে না। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া টোটো চালানো যাবে না। নির্দিষ্ট রুটেই টোটো চলাতে হবে। নায্য ভাড়ার বেশি ভাড়া নেওয়া যাবে না, রাস্তায় যেখানে সেখানে টোটো থামিয়ে রাখা যাবে না। অভিযোগ, সেই সময় এইসব নিয়ম কানুন মাইকিং করে প্রচার করা সত্ত্বেও টোটো চালকরা লিঙ্ক রোডের উপর দিয়ে টোটো চালানো বন্ধ করেনি। বর্তমানে রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর ফের টোটোর দৌরাত্ম্য কমাতে দাবি তুলেছেন শহরের মানুষজন। এখন দেখার, বিজেপি সরকার টোটো পরিষেবাকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে বেঁধে রাখতে পারে কি না।