নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৬৯৯, ৭৯৯, ৯৯৯। আছে ২৯৯, ৪৯৯। এই অঙ্কের টাকা ফেললেই মিলবে পুজো মণ্ডপে প্রবেশের এন্ট্রি পাস। ফেসবুকে দেদার প্রচার চলছে টাকার বিনিময়ে পুজো দেখার পাস নিয়ে। কলকাতার উত্তর হোক বা দক্ষিণ, কোথা থেকে পাস পাওয়া যাবে তার ঠিকানা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফোন নম্বরও দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও বানিয়ে পুজো পাস বিক্রির তোড়জোড় চলছে। কীভাবে পাওয়া যায় তার জন্য ফেসবুকের ইনবক্সে এসে জেনে নিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু টাকার বিনিময়ে পুজো দেখার পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে জোর বিতর্ক। কলকাতা শহর হোক বা রাজ্যের যে কোনও পুজো মণ্ডপে প্রবেশের জন্য কোনও টাকা নেওয়া হয় না। পুজো মণ্ডপে প্রবেশের দ্বার সকলের জন্য খোলা থাকে। এমনকী শহরের একাধিক পুজো কমিটি ভিআইপি পাস কমপ্লিমেন্টারি বা সৌজন্যমূলকভাবে প্রদান করে থাকে। তার জন্য কোনও টাকা নেওয়া হয় না। ফলে বেসরকারি কয়েকটি সংস্থা যারা পাস বিক্রি করছে, তাদের কাজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখছেন, ‘সবাই যদি টাকার বিনিময়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পাস দেখিয়ে ভিআইপি হয়ে যান, তাহলে লাইনে দাঁড়িয়ে ঠাকুর কে দেখবে?’
দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু হতেই আমজনতার মধ্যে লাইন এড়িয়ে কীভাবে ঠাকুর দেখা যাবে তার আলোচনা শুরু হয়ে পরে যায়। তার জন্য পুজো কমিটিগুলির কাছে দেদার ভিআইপি পাসের আবদার আসতে থাকে। পুজো কমিটিগুলি প্রতি বছরই সৌজন্যমূলক কিছু ভিআইপি পাস তৈরি করে। যা সমাজের বিশিষ্ট মানুষ এবং ক্লাব সদস্যদের দেওয়া হয়। পুজো কমিটিগুলি পাস বিক্রি করছে, এমন ছবি দেখা যায়নি। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে, কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ভিআইপি পাস বিক্রি করছে। এবং সেটা লুকিয়ে নয়। রীতিমতো সামাজিক মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে সেই পাস বিক্রি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে
৯৯৯ টাকার একটি পাস সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আবার ২৯৯ টাকায় পাস একটি বিপণি
সংস্থা থেকে পাওয়া যাচ্ছে, এমন খবরও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। যা নিয়ে শোরগোল পড়েছে
সাধারণ মানুষের মধ্যে। ব্যাপক আলোচনা চলছে। ওই পাসগুলি কতটা বৈধ? সে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। আবার টাকা দিয়ে ওই পাস কেনার পর পুজোতে প্রবেশ করা যাবে কি না, সেই প্রশ্নও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘ফ্রি পাসগুলি নিয়ে ব্যবসা করছেন? লজ্জা করে না আপনাদের?’
বিষয়টির খবর গিয়েছে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের কাছে। তারা বলছে, একমাত্র ফোরাম ফর দুর্গোৎসব দুর্গা পুজোর পাস বিক্রি করে থাকে। অনলাইন অ্যাপে তা পাওয়া যায়। এই বুকলেট বিক্রি করে যে টাকা আসে তা সামাজিক কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু অন্য যে সব বেসরকারি সংস্থা টাকার বিনিময়ে পুজো দেখা পাস বিক্রি করছে, তারা সঠিক কাজ করছে না। ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সহ সভাপতি শাশ্বত বসু বলেন, আমাদের কাছে খবর এসেছে ভিআইপি পাস কেউ কেউ বিক্রি করছেন। তাঁরা অন্যায় করছেন। ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন উকিল বলেন, জাল ভিআইপি পাস নিয়ে গতবছর আমাদের কাছে প্রচুর অভিযোগ এসেছিল। আমরা এবছর অত্যন্ত সজাগ ও সচেতন আছি।