Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আমেরিকার এয়ার ডিফেন্সের সেন্সর তৈরিতে বঙ্গতনয়া পূজার উপর ভরসা রাখছে পেন্টাগন, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে ১ লক্ষ ডলারের প্রজেক্ট

ইন্দো-মার্কিন সম্পর্ক এখন তলানিতে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ভারত-বিরোধী মন্তব্য করছেন। অব্যাহত রেখেছেন শুল্ক-চাপ। এমন বিরোধীতার মধ্যেও মার্কিন প্রতিরক্ষায় ভারতের মেধার উপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে ট্রাম্পকে।

আমেরিকার এয়ার ডিফেন্সের সেন্সর তৈরিতে বঙ্গতনয়া পূজার উপর ভরসা রাখছে পেন্টাগন, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে ১ লক্ষ ডলারের প্রজেক্ট
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: ইন্দো-মার্কিন সম্পর্ক এখন তলানিতে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ভারত-বিরোধী মন্তব্য করছেন। অব্যাহত রেখেছেন শুল্ক-চাপ। এমন বিরোধীতার মধ্যেও মার্কিন প্রতিরক্ষায় ভারতের মেধার উপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে ট্রাম্পকে। সে দেশের  শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স প্রযুক্তি সেন্সর (অতি সংবেদনশীল গ্রাহক) নির্মাণে পেন্টাগন বেছে নিল বঙ্গতনয়া পূজা দে’কে।  

Advertisement

আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্সের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর তিনি। বছর খানেক আগে এয়ার ডিফেন্স সংক্রান্ত কিছু প্রজেক্ট পাঠিয়েছিলেন আমেরিকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। সেগুলি দেখে আপ্লুত হন সেখানকার ডিফেন্স গবেষকরা। বাংলার কৃতি ছাত্রী তথা সফল গবেষক, অধ্যাপিকার মেধাকে ব্যবহার করতে উদ্যোগী হন তাঁরা। বিশেষ করে এয়ার ডিফেন্সের সেন্সর তৈরিতে অত্যন্ত দক্ষ পূজাদেবী। তাঁকে সেই কাজের জন্য বেছে নেয় পেন্টাগন।  দু’দফায় এক লক্ষ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়কেও এই প্রকল্পের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে সেখানে গিয়েও প্রয়োজনীয় গবেষণা সকলে মিলে চালিয়ে যেতে পারেন। ৪ আগস্ট পুরো প্রজেক্টের অনুমোদন দিয়েছে পেন্টাগন। 
কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার চন্দন কোনার বলেন, ‘ইউএস এয়ারফোর্স থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রজেক্টে কাজ করার জন্য‌ ঩বিপুল আর্থিক প্যাকেজ দিয়েছে। আমাদের গবেষক ও পড়ুয়াদের কাজ বিদেশেও প্রশংসিত। তা নিয়ে আমরা গর্বিত।’  
জানা গিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে ‘টপোলজিক্যাল ইনসুলেটর বেসড ইনফারেড ফটো ডিটেক্টর’ নামে বিশেষ সেন্সর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন পূজা দে। তাঁর বাড়ি জলপাইগুড়িতে। ২০১৬ সাল থেকেই কর্মসূত্রে  আসানসোলে পরিবার নিয়ে রয়েছেন। তাঁর গবেষণার কাজে সহযোগী হিসেবে রয়েছেন প্রফেসার জে এন রায়। যিনি অক্সফোর্ড প্রকাশিত বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর মধ্যে অন্যতম। সেন্সর মূলত মার্কারি বেসড সেমি কনডাক্টরের উপর তৈরি করা হয়। পূজাদেবীরা তৈরি করছেন টপোলজিক্যাল ইনসুলেটর বেসড ইনফারেড ফটো ডিটেক্টর। এই সেন্সরের তথ্য যাচাই করে দেখা গিয়েছে, এটি অনেক বেশি স্পর্শকাতর। অর্থাৎ, নিখুত বার্তা দিতে সক্ষম। পাশাপাশি অনেক বেশি দূর পর্যন্ত সংবেদনশীলতা গ্রহণ করতে পারে। তাঁদের পুরো প্রকল্পটি গত বছর ইউএস এয়ারফোর্স ল্যাবরেটরির নজর কাড়ে। তারপরই এই বিশেষ প্রজেক্টটি এগিয়ে নিয়ে যেতে তৎপরতা দেখায় তাঁরা। ৪ আগস্ট চূড়ান্ত অনুমোদন আসে। পূজা দে বলেন, ‘কোন সেন্সর ৫০০ মিটার রেঞ্জে কাজ করছে। কোনটি আবার এক হাজার মিটার রেঞ্জে। তাই একই ডিভাইসে বিভিন্ন সেন্সর লাগাতে হয়। ডিভাইসের আকার বড় হলে খরচও বেশি। আমরা যেটা তৈরি করছি, তা অনেক বেশি রেঞ্জজুড়ে কাজ করতে পারবে। অথচ, সেন্সরটি একটি ডিভা‌ই঩সেই থাকবে। তাতে তৈরির খরচ কমবে। সেই সঙ্গে অনেক বেশি নিখুঁত ডেটা সংগৃহীত হবে। অধ্যাপিকার দাবি, তাঁদের সেন্সর প্রযুক্তি শত্রুপক্ষের ড্রোন, মিশা‌ইলের অবস্থানের দ্রুত সংকেত পাঠাতে সক্ষম। আবার ফায়ার ডিটেকশন, রেসকিউ অপারেশন, অটো মোবাইল ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নেবে। এই গবেষণার কাজে তিনজন পিএইচডি পড়ুয়া নীতীশ ঘোষ, মেহেরাজ আজি ও শুভদীপ পাল গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। পুজা দে এর আগে ভারতের ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যাটোমিক এনার্জি, সায়েন্স ও টেকনোলজির একাধিক প্রজেক্টে কাজ করেছেন।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ