Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পড়ুয়াদের হেলমেট পরান রাস্তায় নেমে ‘আকুতি’ পুলিসের

পড়ুয়াদের হেলমেট পরান রাস্তায় নেমে ‘আকুতি’ পুলিসের
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বাইক বা স্কুটার চালাচ্ছেন অভিভাবক। পিছনে বসে শিশু। বাবা-মা’র মাথায় হেলমেট থাকলেও বাচ্চার মাথা খালি! শহরে এ ছবি প্রতিদিনই দেখা যায়। অনেক অভিভাবক হেলমেট পরান। আবার অনেকেই হেলমেট না পরিয়ে বাচ্চাকে নিয়ে যাতায়াত করেন। ফলে রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব গিয়ে পড়ে হেলমেটহীন মাথার উপর। সল্টলেকে দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর ঘটনার পর দু’চাকায় থাকা শিশুদের মাথাতেও হেলমেট পরানো নিয়ে বিশেষ অভিযানে নামল বিধাননগর ট্রাফিক পুলিস। পুলিস আধিকারিকরা প্রায় ‘আকুতি’র সুরে অভিভাবকদের বলছেন, ‘খালি মাথায় যাতায়াত নয়। বাচ্চাদেরও হেলমেট পরান।’ শুধু  রাস্তায় নয়। স্কুলে স্কুলেও চলছে সচেতনতা প্রচার।
Advertisement
১২ নভেম্বর সল্টলেকের দু’নম্বর গেটে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল চতুর্থ শ্রেণির এক পড়ুয়ার। স্কুটার চালাচ্ছিলেন মা। ছেলে ছিল পিছনে। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল তারা। সে সময় দু’টি বাস রেষারেষি করছিল। একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুটারে ধাক্কা মারে। মৃত্যু হয় শিশুটির। তার মাথায় হেলমেট ছিল না। ওই ঘটনার পর শিশু পড়ুয়াদের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ে। দুর্ঘটনা আটকাতে তৎপর হয় পুলিস। বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেক, নিউটাউন, রাজারহাট, এয়ারপোর্ট, বাগুইআটি, কেষ্টপুর সহ বিধাননগরজুড়েই পড়ুয়াদের হেলমেট পরানো নিয়ে সচেতনতা প্রচার চলছে। স্কুলের বাইরে পুলিস সচেতন করছে অভিভাবকদের। রাস্তায় দাঁড়িয়েও চলছে প্রচার। বিভিন্ন স্কুলে পড়ুয়াদের নিয়েও এই কাজ করছে পুলিস। সম্প্রতি নিউটাউন ট্রাফিক গার্ডের পক্ষ থেকে নিউটাউনের ডে কেয়ার স্কুলে শিশু পড়ুয়াদের হেলমেটও বিতরণ করা হয়েছে।
সল্টলেকে যে জায়গায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল সেখান শিশুদের হেলমেট না পরিয়ে স্কুলে দিতে যাচ্ছিলেন এক অভিভাবক। তাঁকে দাঁড় করিয়ে কারণ জিজ্ঞেস করে পুলিস। অভিভাবক উত্তর দিয়েছিলেন, ‘স্যার হেলমেট আছে। আজ পরিয়ে আনতে ভুলে গিয়েছি।’ এরকম অজুহাত অনেকেই দিচ্ছেন বলে বক্তব্য পুলিসকর্মীদের। বিধাননগরের ডেপুটি পুলিস কমিশনার (ট্রাফিক) নিমা নরবু ভুটিয়া বলেন, ‘শিশু পড়ুয়াদের যাতে হেলমেট পরানো হয়, সে বিষয়ে আমরা সবাইকে সচেতন করছি। স্কুলেও প্রচার করা হচ্ছে।’
সম্পর্কিত সংবাদ