নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ২০১৮ সাল থেকে টানা পাঁচ বছর পড়ুয়াশূন্য ভগবানপুর-২ ব্লকের বজরপুর বালিকা বিদ্যাপীঠ। নারী শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালে ইটাবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন পূর্ব বজরি গ্রামে এই স্কুল তৈরি হয়। একসময় স্কুলে হস্টেল ছিল। স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ার সংখ্যাও বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু, গত ১০-১২ বছর ধরে স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে। ২০১৮ সাল থেকে একসময় নারীশিক্ষায় আলো দেখানো এই স্কুল পড়ুয়া শূন্য হয়ে যায়। টানা পাঁচ বছর স্কুলে একজনও ছাত্রী নেই। টিচার ইন-চার্জ রমা মাইতি, একজন ক্লার্ক ও একজন গ্রুপ-ডি কর্মী বসে বসে মাইনে পান। পড়ুয়া না থাকলেও তিনজনেই স্কুলে আসেন। কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে তাঁরা বাড়ি ফিরে যান। টানা পাঁচ বছর এভাবে পড়ুয়াশূন্য স্কুলে তাঁরা রয়েছেন।
Advertisement
বুধবার ভূপতিনগর থানার পুলিস পূর্ব বজরি লাগোয়া উত্তর খামার গ্রামে বজরপুর রামকৃষ্ণ হাই স্কুলে স্বয়ংসিদ্ধা কর্মসূচিতে গিয়েছিল। নাবালিকা বিয়ে আটকানোর লক্ষ্যে স্কুলে ওই কর্মসূচি ছিল। সেখান থেকে ৫০০ মিটার দূরেই বজরপুর বালিকা বিদ্যাপীঠ। পুলিস অফিসার আমিনুল ইসলাম ফেরার পথে ওই স্কুলেও মেয়েদের সচেতনতার বার্তা দেওয়ার জন্য হাজির হন। কিন্তু, বিকাল ৩টে নাগাদ গিয়ে দেখেন, স্কুলে তালা। কিছুক্ষণ আগে টিআইসি রমাদেবী বেরিয়ে গিয়েছেন। গ্রামবাসীদের কাছে খোঁজখবর নিয়ে পুলিস জানতে পারে, মেয়েদের এই স্কুলে একজন ছাত্রীও পড়ে না। চারটি ক্লাসরুম, অফিস ঘর, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী থাকলেও ছাত্রী নেই।
৫৬ বছরের পুরনো বজরপুর বালিকা বিদ্যাপীঠ একসময় ওই এলাকায় ছাত্রীদের শিক্ষাদানের ভরসা ছিল। স্কুলে হস্টেল ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ জমি কিনে সেখানে সার্কেল লেভেল রিসোর্স সেন্টার(সিএলআরসি) বানিয়েছিল। টিআইসি সহ স্কুলে মোট তিনজন শিক্ষিকা ছিলেন। এছাড়াও একজন ক্লার্ক এবং একজন গ্রুপ-ডি কর্মী। ২০১২ সাল থেকে স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা কমতে থাকে। এক একটি ক্লাসরুমে তালা পড়তে শুরু করে। ২০১৮ সালে একেবারে পড়ুয়াশূন্য হয় ওই স্কুল।
তিনজন শিক্ষিকা বসে বসে বেতন পাওয়ার ঘটনা এসআই অফিসের মাধ্যমে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে জানানো হয়। এই অবস্থায় তিনজন শিক্ষিকাকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রান্সফার করা হয়। টিআইসি ছাড়া অন্য দু’জন অন্যত্র চলে গিয়েছেন। টানা ৩৫ বছর ধরে এই স্কুলে কাটানো রমাদেবী এই স্কুলের মায়া কাটিয়ে বাজকুলের স্কুলে জয়েন করেননি। আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তিনি অবসর নেবেন। পড়ুয়া শূন্য হলেও নিজের স্কুল থেকেই অবসর নিতে চান এগরার বাসিন্দা রমাদেবী।
টিচার ইন-চার্জ রমাদেবী বলেন, আমাদের স্কুলে আগে পড়ুয়ার সংখ্যা মোটামুটি ভালোই ছিল। কিন্তু, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অনুমোদন থাকায় অভিভাবকরা এই স্কুলের পরিবর্তে লাগোয়া বজরপুর রামকৃষ্ণ হাইস্কুলে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি করাচ্ছেন। যে কারণে আমাদের স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে কমতে ২০১৮ সালে একেবারে শূন্য হয়ে যায়। দু’জন সহ শিক্ষিকাকে অন্যত্র বদলি করেছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। আমাকেও বাজকুলের একটি স্কুলে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু, অবসর নেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় আমি অন্যত্র যাইনি। এই স্কুলে আমি ৩৫ বছর কাটিয়েছি। স্কুলকে ঘিরে অনেক স্মৃতি রয়েছে। পড়ুয়া না থাকায় ভীষণ খারাপ লাগে। বিশেষ করে সরস্বতী পুজো যত এগিয়ে আসে, মন আরও ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে।
৫৬ বছরের পুরনো বজরপুর বালিকা বিদ্যাপীঠ একসময় ওই এলাকায় ছাত্রীদের শিক্ষাদানের ভরসা ছিল। স্কুলে হস্টেল ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ জমি কিনে সেখানে সার্কেল লেভেল রিসোর্স সেন্টার(সিএলআরসি) বানিয়েছিল। টিআইসি সহ স্কুলে মোট তিনজন শিক্ষিকা ছিলেন। এছাড়াও একজন ক্লার্ক এবং একজন গ্রুপ-ডি কর্মী। ২০১২ সাল থেকে স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা কমতে থাকে। এক একটি ক্লাসরুমে তালা পড়তে শুরু করে। ২০১৮ সালে একেবারে পড়ুয়াশূন্য হয় ওই স্কুল।
তিনজন শিক্ষিকা বসে বসে বেতন পাওয়ার ঘটনা এসআই অফিসের মাধ্যমে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে জানানো হয়। এই অবস্থায় তিনজন শিক্ষিকাকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রান্সফার করা হয়। টিআইসি ছাড়া অন্য দু’জন অন্যত্র চলে গিয়েছেন। টানা ৩৫ বছর ধরে এই স্কুলে কাটানো রমাদেবী এই স্কুলের মায়া কাটিয়ে বাজকুলের স্কুলে জয়েন করেননি। আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তিনি অবসর নেবেন। পড়ুয়া শূন্য হলেও নিজের স্কুল থেকেই অবসর নিতে চান এগরার বাসিন্দা রমাদেবী।
টিচার ইন-চার্জ রমাদেবী বলেন, আমাদের স্কুলে আগে পড়ুয়ার সংখ্যা মোটামুটি ভালোই ছিল। কিন্তু, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অনুমোদন থাকায় অভিভাবকরা এই স্কুলের পরিবর্তে লাগোয়া বজরপুর রামকৃষ্ণ হাইস্কুলে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি করাচ্ছেন। যে কারণে আমাদের স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে কমতে ২০১৮ সালে একেবারে শূন্য হয়ে যায়। দু’জন সহ শিক্ষিকাকে অন্যত্র বদলি করেছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। আমাকেও বাজকুলের একটি স্কুলে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু, অবসর নেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় আমি অন্যত্র যাইনি। এই স্কুলে আমি ৩৫ বছর কাটিয়েছি। স্কুলকে ঘিরে অনেক স্মৃতি রয়েছে। পড়ুয়া না থাকায় ভীষণ খারাপ লাগে। বিশেষ করে সরস্বতী পুজো যত এগিয়ে আসে, মন আরও ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে।



