সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: নেতাদের ‘প্রণামী’ দিলে বাড়ি তৈরির জন্য প্ল্যান পাশ করার দরকার হত না। বর্ধমান শহরের কয়েকজন কাউন্সিলার ও নেতার বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠেছে। ঠিকমতো প্রণামী পেলে তারা নিজেরাই দাঁড়িয়ে থেকে বাড়ি তৈরি করে দিত। প্রণামীর ‘রেট’ আলাদা ছিল। কেউ ৫০ হাজার, কেউ এক লক্ষ, কেউ আরও বেশি টাকা পর্যন্ত নিত বলে অভিযোগ। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তৃণমূল নেতাদের ইন্ধনেই বর্ধমান শহরে এত অবৈধ নির্মাণ হয়েছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ব্যাঙের ছাতার মতো বহুতল হয়েছে। টাকা নিয়ে বেআইনি বাড়ি ও বহুতল নির্মাণের ছাড়পত্র দিয়েছে। পুরসভা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর পিছনে রহস্যটা কী?
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গোদার এক নেতা এই কাজে সবচেয়ে বেশি সিদ্ধহস্ত ছিলেন। বাড়ি তৈরি করার আগে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে হত। পুরসভা বা বিডিএর অনুমতি নেওয়ার পরও অনেকে ছাড় পেতেন না। তাঁর ‘পাওনা’ মেটাতে হত। তৃণমূল জমানায় ওই এলাকায় শেষ কথা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। পালাবদলের পর অবশ্য তিনি ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। শহরের প্রাণকেন্দ্রে জমির দাম বেশি। ফলে সেখানে বেআইনি কাজ করার জন্য প্রণামীও দিতে হত অনেকটাই। এই সমস্ত কাজে যাঁরা মদত দিয়েছেন তাঁদের কেউ কেউ এলাকাছাড়া। আবার অনেক দূরদর্শী নেতা ভোটের আগেই বিজেপির হয়ে তলে তলে কাজ করবেন, এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘সেটিং’ করে রেখেছিলেন। রাজ্যের পালা বদলের পরেও তাঁরা বহালতবিয়তে রয়েছেন।
একই নিয়ম চালু ছিল বাজেপ্রতাপপুর এলাকায়। এখানকার এক নেতা আবার অন্যের সম্পত্তি দখল করে নির্মাণ করেছেন। শুক্রবার এরকমই একটি নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হয়। শহর লাগোয়া পঞ্চায়েত এলাকাতেও অনেকেই নেতাদের টাকা দিয়েই বাড়ি করেছেন বলে অভিযোগ। কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, পুরসভা বা সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতগুলি ব্যবস্থা নিলে এই অবস্থা হত না। তৃণমূলের কিছু নেতা নিজেদের মতো করে আইন তৈরি করে ফেলেছিলেন। তাঁরা দেদার অবৈধ নির্মাণ তৈরির ছাড়পত্র দিয়েছেন। টাকা দিলেই সাতখুন মাফ।
শহরের বাসিন্দারা বলেন, পুরসভা বিষয়টির দিকে নজর দিলে রাজস্ব বাড়ত। আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়তে হত না। প্রাক্তন কর্মীরা পেনশন পাচ্ছেন না। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আমরা প্রথম থেকেই পদক্ষেপ নিয়েছি। যারা এধরনের কাজ করেছে তাদের শোকজ করা হয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, অবৈধ নির্মাণ ভাঙলে বহু পরিবার রাস্তায় বসবে। জরিমানা করে সেগুলিকে বৈধ করা যেতে পারে। তবে সরকারি জায়গার উপর অবৈধভাবে যেসব নির্মাণ হয়েছে সেগুলির ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, কারা টাকা নিয়ে অবৈধ নির্মাণের ছাড়পত্র দিয়েছে, তা জানা নেই। আমাদের দল কখনোই কাউকে এধরনের কাজ করতে বলেনি। ব্যক্তিগত স্বার্থে এরকম কেউ করে থাকলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিক।