Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দাঙ্গাবাজদের মুখে দেশপ্রেম মানায় না, মোদির কুমন্তব্যে ফুঁসছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

দাঙ্গাবাজদের মুখে দেশপ্রেম! জাতীয়তাবাদ এবং দেশদ্রোহিতা নিয়ে যাদবপুরের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুমন্তব্যে বিস্মিত দেশের শীর্ষ রাজ্য সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি। এবং ক্ষুব্ধও।

দাঙ্গাবাজদের মুখে দেশপ্রেম মানায় না, মোদির কুমন্তব্যে ফুঁসছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
  • ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দাঙ্গাবাজদের মুখে দেশপ্রেম! জাতীয়তাবাদ এবং দেশদ্রোহিতা নিয়ে যাদবপুরের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুমন্তব্যে বিস্মিত দেশের শীর্ষ রাজ্য সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি। এবং ক্ষুব্ধও। অনেকে ঢাকাইয়া কুট্টিদের ঢঙে বলছেন, ‘আস্তে কন কত্তা, ঘুড়ায়ও হাসব।’ একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিকর মিম ছড়ানোতেও ক্রুদ্ধ যাদবপুর। সোমবারই এখানে যৌন হেনস্তামূলক অভিযোগের তদন্তকারী সংস্থা আইসিসির ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। সেই আবহে এই কুৎসিত মিম ছড়ানোয় সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা।

Advertisement

সিপিএম, নকশাল এবং স্বাধীন বামেদের শক্ত ঘাঁটি আর্টস ফ্যাকাল্টিতে এবার দ্বিতীয় শক্তি হিসাবে খাতা খুলেছে টিএমসিপি। দ্বিতীয় স্থান পাওয়া টিএমসিপির তীর্থরাজ বর্ধন বেশ আক্রমণাত্মক। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের পড়ুয়া তীর্থরাজ বলেন, ‘বিজেপি, আরএসএস যে আদর্শে বিশ্বাস করে, সেটা ঔদ্ধত্যের রাজনীতি, দাঙ্গাবাজের রাজনীতি, বিভেদের রাজনীতি। এতে বিশ্বাস করেন বলেই নির্বাচনি জনসভায় এসে তাঁর মুখ থেকে এটা বেরিয়ে গিয়েছে। তাঁর কোনও উদ্বেগ থাকলে আগে সেটা প্রকাশ না করে নির্বাচনের মুখে কেন এটা বললেন? সবাই সব বুঝতে পারছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাসী হলেও তিনি কখনো যাদবপুরকে আক্রমণ করেননি। বরং যাদবপুরের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কুমন্তব্যের পর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রথম এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। আর আমরা দেখেছি, কীভাবে বিজেপির পেজ থেকে মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মিম শেয়ার করা হচ্ছে। দলটার সংস্কৃতি বেআব্রু হয়ে গিয়েছে।’
এডুকেশন বিভাগের অধ্যাপক মণিকান্ত পড়িয়া বলেন, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন সম্প্রীতি। আর বাইরে থেকে এসে বাংলাকে দখলের জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে টার্গেট করছে বিজেপি। এ ধরনের কথায় দাঙ্গাহাঙ্গামা এখানে লাগানো যাবে না। বরং এই প্রতিষ্ঠান আরও ভালো জায়গায় যাবে।’ ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক নীলাঞ্জনা গুপ্ত বলেন, ‘প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন পুরস্কার, সম্মান, র‌্যাঙ্কিংয়ে বাকিদের পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে যাদবপুর। বিজেপির এই ঘৃণ্য রাজনীতি সত্ত্বেও ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।’
ইংরেজি বিভাগের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী অধ্যাপক ঈশান চক্রবর্তী বলেন, ‘একজন দৃষ্টিহীন অধ্যাপক হিসাবে যাদবপুর আমাকে যে কাজের পরিবেশ দেয়, তার তুলনা নেই। কেন্দ্রের ন্যূনতম অনুদান না থাকা সত্ত্বেও এখানে পথের পাঁচালির অডিও ডেসক্রিপশন তৈরি হয়েছে দৃষ্টিহীনদের জন্য। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
আয়ারল্যান্ডে পোস্ট ডক্টরেট করছেন যাদবপুরের প্রাক্তনী সৌমিত্র পতি। তিনি বলেন, ‘এত দূর থেকেও বিজেপির মরিয়া ভাব টের পাচ্ছি। যেভাবে একটা রাজ্য দখলের জন্য প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিনের পর দিন পড়ে রয়েছেন, যাদবপুর নিয়ে এই মন্তব্যও তার অংশ। কোনও কারণই ছাড়া যাদবপুর টেনে আনলেন তিনি। যদিও যাদবপুরের কিছুই জানেন না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ