নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: নিজেকে স্পাইন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলে পরিচয় দেন। হাতে ‘জাল’ ডাক্তারি সার্টিফিকেট। সার্জারি বা অস্ত্রোপচারের সময় ব্যবহার করতেন মৃত চিকিৎসক কিংবা অন্য চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর। কলকাতার চিনার পার্কের কাছে নিজের নার্সিংহোম খুলে চলছিল চিকিৎসার কারবার! আর সেই ভুয়ো চিকিৎসক বজলুর রহমানকে আটবছরের কারাদণ্ড দিল বারাসত আদালত। বুধবার বারাসত আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ (তৃতীয় কোর্টের বিচারক) এই সাজা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তিন লক্ষ টাকা জরিমানারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩০৪ ধারায় আটবছর এবং ৪২০ ধারায় পাঁচবছর এবং ৪৭১ ধারায় তিনবছরের কারাদণ্ড হয়েছে বজলুরের। তিনটি সাজাই একসঙ্গে চলবে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু স্পাইনের চিকিৎসা নয়, ব্রেন এবং স্পাইনের অস্ত্রোপচারও করতেন বজলুর! চিকিৎসক হিসাবে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও রোগীদের কাছে নিজেকে ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক’ হিসাবেই তুলে ধরতেন তিনি। অভিযোগ, জাল নথি দেখিয়ে সেই পরিচয় তৈরি করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হত অন্য চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন নম্বরও। চিনার পার্কের কাছে একটি বেসরকারি হাসপাতাল চালাতেন বজলুর। সেখানেই চিকিৎসার নামে প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছিল বলে অভিযোগ। শুধু কলকাতা লাগোয়া এলাকা নয়, বর্ধমান, আসানসোলসহ বিভিন্ন জেলার একাধিক নার্সিংহোমেও অস্ত্রোপচার করতেন তিনি।
পুলিশ সূত্রের খবর, রোগী জোগাড়ের জন্য এজেন্টও নিয়োগ করা হয়েছিল। শেষপর্যন্ত একটি অস্ত্রোপচারই তাঁর জারিজুরি ফাঁস করে দেয়। ধরা পড়েন তিনি পুলিশের হাতে। ২০২০ সালে বারাসতের ন’পাড়ার বাসিন্দা নিখিলচন্দ্র রায়ের অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে বারাসত থানার পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় বজলুরকে। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে ৩০৪ ধারা, প্রতারণার অভিযোগে ৪২০ ধারা এবং জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগে ৪৭১ ধারায় (আইপিসি) মামলা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে সোমবার বজলুরকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। বুধবার ঘোষণা করা হল সাজা। মামলার সরকারি আইনজীবী সন্দীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘বজলুর রহমান আদ্যপ্রান্ত ভুয়ো চিকিৎসক। নিজেকে স্পাইন বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচার পর্যন্ত করতেন তিনি! তাঁর ভুল চিকিৎসায় বিভিন্ন জেলার শতাধিক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।’