নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ১২৫ দিনের কাজে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে পশ্চিম মেদিনীপুর। এরপর প্রথম স্থানে পৌঁছনোর পরিকল্পনা শুরু করল জেলা প্রশাসন।
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ১২৫ দিনের কাজে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে পশ্চিম মেদিনীপুর। এরপর প্রথম স্থানে পৌঁছনোর পরিকল্পনা শুরু করল জেলা প্রশাসন।
জেলার সব গ্রাম পঞ্চায়েতে অবশ্য ছবিটা এক নয়। বেশ কিছু পঞ্চায়েতে কাজের গতি আশানুরূপ না হওয়ায় আধিকারিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলিতে দ্রুত কাজ শুরু করার পাশাপাশি গ্রামস্তরে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে বাঁকুড়া জেলা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, বছরে সর্বাধিক ১২৫ দিন কাজের সুযোগ তৈরি করাই নতুন কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। আগের ১০০ দিনের কর্মসূচির পরিবর্তিত কাঠামো হিসেবেই ‘ভিবি-জি রাম-জি’ প্রকল্পে কাজ এগচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৬ লক্ষের বেশি শ্রমিক এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। জেলার ২১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতেই পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের কাজ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা জানান, কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প গ্রামীণ এলাকার বহু পরিবারকে আর্থিক সহায়তা জোগাবে।
ইতিমধ্যেই শালবনী ব্লকের সাতপাটি এলাকার পাথরি গ্রামে জল ধরে রাখার পরিকাঠামো তৈরির লক্ষ্যে মাটি কাটার কাজ হয়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব, প্রথম পর্যায়েই জেলায় প্রায় ৭ হাজার কর্মদিবস তৈরি হতে পারে। পরে কাজের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
অতীতে ১০০ দিনের কাজে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছিলেন জেলার বহু শ্রমিক। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রযুক্তির সাহায্যে নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাজের অগ্রগতি লাইভ মনিটরিংয়ের আওতায় থাকছে। অভিযোগ এলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, কোন গ্রামে কী কাজ প্রয়োজন, তা গ্রামসভায় আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হবে। জল নিকাশি, জল সংরক্ষণ এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো কাজেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। ১৫ আগস্ট ছুটির দিনেও কয়েকটি এলাকায় গ্রামসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেশপুরের শ্রমিক স্বপন মণ্ডল বলেন, এই কাজের জন্য অনেকেই অপেক্ষা করছেন। পুজোর পর কাজ আরও বাড়বে বলে আশা করছি। প্রকৃত প্রাপকরা যেন সুযোগ পান এবং পারিশ্রমিক সময়মতো মেলে, সেটা খেয়াল রাখা জরুরি। মেদিনীপুর সদর ব্লকের চাঁদড়া এলাকার বাসিন্দা সন্তোষ মণ্ডল বলেন, ঘন ঘন বৃষ্টির জন্য সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। নতুন ধরনের কাজ দিক প্রশাসন। তবেই উৎসাহ পাবে সাধারণ মানুষ।