সংবাদদাতা, খড়্গপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রায় আড়াই হাজার লোকশিল্পীর তথ্যে গরমিল! মে মাস থেকেই বন্ধ লোকপ্রসার শিল্পের ভাতা। কবে থেকে ফের চালু হবে এই ভাতা তা বলতে পারছেন না প্রশাসনের আধিকারিকরা। রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অবশ্য জানিয়েছেন, ‘একটা একটা করে চালু হচ্ছে। এই ভাতাও পাওয়া যাবে। একটু সময় লাগবে।’ তার আগে লোকশিল্পীদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে। আর তা যাচাই করতে গিয়েই দেখা গেল, পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রায় আড়াই হাজার লোকশিল্পীর তথ্যে হয় গরমিল নয়তো অসম্পূর্ণ তথ্য রয়েছে। শুক্রবার এমনটাই জানা গিয়েছে জেলা প্রশাসনের একটি সূত্রে। ওই সূত্রে এও জানা গিয়েছে, আপাতত তাঁদের লোকশিল্পীর পরিচয়পত্র নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করা হবে। বিজেপির জেলা মুখপাত্র অরূপ দাসের অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে পুরুষরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেয়েছেন। আর যাঁরা জীবনে কখনও লোকশিল্প বা গান-বাজনার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁরাও ভুয়ো তথ্য দিয়ে লোকশিল্পীর ভাতা পেয়েছেন। আমাদের সরকার তাই যাচাই না করে, ভাতা দেবে না।
পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রায় দশ হাজার লোকশিল্পী মাসে এক হাজার টাকা করে ভাতা পেতেন। মে মাস থেকে তাঁদের সকলেরই ভাতা বন্ধ। এদিকে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে সরকারি অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতেও এখনও অবধি ডাক পড়েনি শিল্পীদের। ফলে সমস্যার মধ্যেই দিন কাটছে তাঁদের। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের নির্দেশে শিল্পীদের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া (ভেরিফিকেশন) চলছে। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি এবং শিল্পীর পরিচয়পত্র জমা করতে হচ্ছে জেলা কিংবা মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে। ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর, খড়্গপুর ও ঘাটাল মহকুমার বেশিরভাগ শিল্পীরা নিজেদের তথ্য জমা করেছেন। জেলার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এখনও অবধি প্রায় আড়াই হাজার লোকশিল্পীর সম্পূর্ণ তথ্য আমরা পাইনি। অনেকের আবার ভোটার কার্ডও নেই। কিছুজনের অবশ্য আধার কার্ড বা ব্যাঙ্কের নথিতে সমস্যা আছে।’ তথ্যে গরমিল থাকলে কি ভবিষ্যতে আর ভাতা মিলবে না? ওই আধিকারিক বলেন, ‘আপাতত তাঁদের লোকশিল্পীর পরিচয়পত্র সাসপেন্ড করা হবে। সঠিক তথ্য জমা করলে, পুনরায় তা সক্রিয় করা হবে। না হলে বাতিল করা হবে।’ কোন মাস থেকে ভাতা চালু হবে, সেই বিষয়ে অবশ্য এখনও কোনো ইঙ্গিত মেলেনি বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা।