সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: বাংলায় কথা বললে ভিন রাজ্যে বাঙালি আক্রান্ত হচ্ছে। বাঙালি অস্মিতা চ্যালেঞ্জের মুখে। এই পরিস্থিতিতে বাঙালিয়ানা সামনে তুলে ধরতে হালিশহরের পোড়ো বারোয়ারি পুজো কমিটির থিম, ‘বাংলা ও বাঙালিয়ানা’। রামপ্রসাদের ভিটের সামনে এই দুর্গাপুজো হয়। অষ্টমীতে জাত-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই অংশ নেন কুমারী পুজোয়। ২৪ কুমারী মেয়েকে রামপ্রসাদের ভিটেতে নিয়ে গিয়ে প্রথমে পুজো করা হয়। তারপর ঢাকি সহকারে শোভাযাত্রা করে যাওয়া দুর্গা মণ্ডপে। সেখানেই হয় কুমারী পুজো। কমিটির অন্যতম কর্তা চন্দ্রোদয় চক্রবর্তী বলেন, ‘স্বামী বিবেকানন্দের বর্ণিত নিয়মে কুমারী পূজো হয় এখানে। ব্রাহ্মণ-অব্রাহ্মণ ভেদ করা হয় না।’ ৩০০ বছরের প্রাচীন রামপ্রসাদের ভিটের এই কুমারী পুজো দেখতে বহু মানুষের ভিড় হয় প্রতিবছর। ধূপের সুগন্ধ, ধুনুচির ধোঁয়া, ঢাকের বোলে কুমারীরা তখন যেন সাক্ষাৎ দুর্গা। রামপ্রসাদের ভিটেতে পুজোর ক’দিন নিত্যপুজো হয়। ভোগ দেওয়ার রীতি। বহু মানুষ অষ্টমী-নবমীতে পুজো দিতে আসেন বলে জানান মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাধব চক্রবর্তী।
হালিশহরের বাণী মন্দিরের বলাকা শিশু মহলের মণ্ডপ হচ্ছে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের আদলে। বিগ বাজেটের পুজো বলে এটি পরিচিত। ফাইবার, বেত, বাঁশের চটা দিয়ে তৈরি হচ্ছে মন্দির। এ পুজোর অন্যতম কর্মকর্তা হলেন হালিশহর পুরসভার চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, ‘বলাকা শিশু মহলের পূজো ৩৫ বছরে পড়ল। দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। প্রতিমা হবে জগন্নাথ দেবের আদলে। পুজো হবে জগন্নাথেরও। জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার মূর্তিও তৈরি হচ্ছে। আশি ফুট উচ্চতার মণ্ডপ। মায়াপুরের ইসকন মন্দির থেকে সন্ন্যাসীরা আসবেন। কীর্তন করবেন। এছাড়া ইসকনের অন্যতম কর্তা রাধারমণ দাস আসবেন।’
বাগমোড়ের ত্রিপর্ণ পরিচালিত পুজোর থিম, ‘বাস্তবের পথে আলোর দুনিয়া’। এই পুজোর অন্যতম কর্তা প্রবীর সরকার জানালেন, আমাদের পৃথিবী প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারাচ্ছে। বৃক্ষ নিধনের ফলে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় হচ্ছে। ভূমিকম্প, মেঘ ভাঙা বৃষ্টি ইত্যাদি। আমরা মানুষকে সচেতন করতে পুজোর মধ্য দিয়ে বলতে চাই, অন্তত একটি করে গাছ বসান। মানুষকে বেশি সংখ্যক গাছ দেওয়ার চেষ্টা করবে পুজো কমিটি। প্রকৃতিকে বাঁচানোই তেষট্টি বছরের পুরনো পুজোর অন্যতম সংকল্প।
এছাড়া হালিশহরের আর একটি প্রাচীন পুজো হলো লক্ষ্মীনারায়ণ কলোনির পল্লিবাসীবৃন্দের পুজো। তা ৬৮ বছরে পড়ল। এবারের থিম, বাংলার ব্রত, বাংলার কাব্য। অন্যতম কর্তা কৃষ্ণ ভৌমিক বলেন, ‘মহিলারা বাড়িতে লক্ষ্মীর ব্রত বা অন্যান্য ব্রত পালন করেন। সেইসব ব্রত এবং কাব্য মণ্ডপে তুলে ধরা হচ্ছে। বাংলার সংস্কৃতি তুলে ধরাই আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন, রানি রাসমণি, স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপিনবিহারী গঙ্গোপাধ্যায়ের শহর হল হালিশহর। সে শহর থিম আর সাবেকির মেলবন্ধনে সকলের কাছেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে চলেছে।