Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ায় ভেঙে পড়ল জীর্ণ বাড়ির একাংশ, প্রাণে বাঁচলেন বাসিন্দারা

রাতভর টানা বৃষ্টি। তার জেরে বুধবার সকালে মধ্য হাওড়ার বৈষ্ণব মল্লিক লেনে একশো বছরের একটি পুরনো বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়েছে।

হাওড়ায় ভেঙে পড়ল জীর্ণ বাড়ির একাংশ, প্রাণে বাঁচলেন বাসিন্দারা
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাতভর টানা বৃষ্টি। তার জেরে বুধবার সকালে মধ্য হাওড়ার বৈষ্ণব মল্লিক লেনে একশো বছরের একটি পুরনো বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়েছে। তিনতলা ওই বাড়ির দোতলায় সিঁড়ির পাশে থাকা একটি পুরনো বিম ভেঙে পড়ায় এই বিপত্তি ঘটে। অল্পের জন্য রক্ষা পান বাড়ির বাসিন্দারা। হাওড়া পুরসভা এই বাড়িটিকে আগেই বিপজ্জনক বলে ঘোষণা করেছিল। তারপরেও শতবর্ষ পেরনো এই জীর্ণ বাড়িতে ৮-১০টি পরিবার ভাড়ায় থাকছিল বলে খবর। এদিন দুর্ঘটনার পরেই বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যায় প্রশাসন। বিপদজ্জনক অবস্থায় থাকা এই বাড়িটি স্থানীয়দের কাছেও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ৬টা নাগাদ প্রবল বৃষ্টির মধ্যে আচমকা কিছু ধসে পড়ার মতো বিকট শব্দ পান বৈষ্ণব মল্লিক লেনের বাসিন্দারা। দৌড়ে গিয়ে তাঁরা দেখেন, বাড়িটির ভিতরে দোতলায় এটি লোহার বিম সহ সিঁড়ির অনেকটা অংশ ভেঙে পড়েছে। কোনওমতে প্রাণে বেঁচেছে ওই ঘরে থাকা চারজনের একটি পরিবার। আতঙ্কিত বাসিন্দারা বাইরে বেরিয়ে আসেন। খবর পেয়ে আসে হাওড়া থানার পুলিস ও দমকল। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বাড়ির ভিতরের অংশ পরীক্ষা করে দেখেন দমকল কর্মীরা। যে কোনও মুহূর্তে বাড়িটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দমকল। জানা গিয়েছে, বছরের পর বছর ধরে প্রায় দশটি পরিবার ওই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকছে। এমনকী, বাড়ির মালিকও পরিবার নিয়ে এখানেই থাকেন। ভাড়াটিয়া দিলীপকুমার লায়েক বলেন, ‘তিন বছর আগে এই বাড়ির একতলার একাংশ ভেঙে পড়েছিল। বাড়িওয়ালাকে বলেও কোনও লাভ হয়নি।’ ভাড়াটিয়াদের দাবি, বিপজ্জনক এই বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হয়নি। পুরসভা তাঁদের সরে যেতে বললেও কম ভাড়া হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকি নিয়েই থেকে গিয়েছেন। বাড়ির মালিক দীননাথ সাউ বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর ভাড়াটিয়াদের আমি আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন বাড়ির কী হবে, তা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বাড়িটি ভেঙে পড়লে আশপাশে থাকা অন্যান্য বাড়িগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই প্রশাসন যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘পুরসভার তরফে আগেই ওই বাড়িতে বিপজ্জনক লেখা বোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সতর্ক করার পরেও সেখান থেকে বাসিন্দারা সরছিলেন না। তবে এদিনের দুর্ঘটনায় তাঁরা বরাত জোরে রক্ষা পেয়েছেন।’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরজুড়ে মোট ৪৮৭টি এমন বাড়ি রয়েছে, যেগুলি যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। মূলত উত্তর ও মধ্য হাওড়ার ১, ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর বরো এলাকায় রয়েছে দেড়শো বা তারও বেশি বছরের পুরনো দোতলা ও তিনতলা বাড়ি। গত বছর আগস্ট মাসে মল্লিক ফটক এলাকায় এমনই একটি বাড়ি ভেঙে পড়েছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ