


সংবাদদাতা, বহরমপুর: বহরমপুরে ‘‘নো-পার্কিং’ ফাইনে শহরবাসী কার্যত নাস্তানাবুদ হয়ে পড়ছেন। শহরের বিভিন্ন জায়গায় বাইক রাখলেই মালিকদের জরিমানা গুনতে হচ্ছে। অথচ সেখানে থাকছে না কোনো নো পার্কিং বোর্ড! এক ঘণ্টার মধ্যেই বাইকের নম্বরের সঙ্গে যুক্ত রেজিস্টার মোবাইলের স্ক্রিনে ফাইনের চালান ভেসে উঠছে। বাইক মালিকরা টেরই পাচ্ছেন না কোথায় তাঁরা আইন ভেঙেছেন। কাজ সেরে বাড়ি ফিরে বা বাড়ি ফেরার আগেই জরিমানার চালান চলে আসছে মোবাইলে। যা নিয়ে বিব্রত শহরবাসী কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছেন। বিভিন্ন কাজে বাইরে থেকে আসা মানুষজন বহরমপুরে শহরে বাইক নিয়ে ঢুকতেই ভয় পাচ্ছেন। বাইক মালিকদের দাবি, আইন অমান্য করলে নিশ্চয় জরিমানা হবে। কিন্তু তার আগে পুলিশের সেসব এলাকায় নো-পার্কিং বোর্ড ঝোলানো উচিত। যা দেখে মানুষ অন্তত সতর্ক হবেন। কোটা নো পার্কিং জোন তা সাধারণ মানুষের জানার কথা নয়। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন্ত মজুমদার বলেন, সদ্য এই পদের দায়িত্ব নিয়েছি। খতিয়ে দেখে নোটিফায়েড এলাকা চিহ্নিত করা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
বহরমপুর শহরের মানুষ বাজার, নিত্য প্রয়োজনে সাধারণত বাইক নিয়ে বের হন। বাইকে করে সরকারি কাজে অফিস, আদালতেও যেতে হয়। তখন নিজের বাইকটি বাজার, দোকান বা অফিস আদালতের কোথাও খাঁড়া করে রেখে কাজ সারেন সবাই। বিভিন্ন কাজে শহরের বাইরে থেকে যাঁরা আসছেন তাঁদেরও সর্বদা নিজের বাইকটি নিরাপদ জায়গায় রাখতে হয়। নতুবা চুরির ভয় থাকে। শহরে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল ল্যাব থেকে শুরু করে হাসপাতাল, নার্সিংহোম সংলগ্ন জায়গায় প্রচুর বাইক রাখা থাকে। আর এই সব জায়গাতেই কার্যত ‘ফাঁদে’ পড়ছেন সাধারণ মানুষ। সিভিক বা পুলিশ কর্মীরা এসে দাঁড় করানো বাইকের নম্বর প্লেটের ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। বাহন অ্যাপের মাধ্যমে বাইকের নম্বর সহ পাঁচশো টাকার চালান রেজিস্ট্রার মোবাইলে চলে যাচ্ছে। অনলাইন জালিয়াতি সন্দেহে অনেকেই সেই নোটিফিকেশন খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না। চালান জমা না দিলে বাড়িতে সমন আসছে। প্রতিদিন এভাবে বহু মানুষ নো-পার্কিংয়ে বাইক রাখার অপরাধে জরিমানা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বহরমপুরের লালদিঘি পাড় এলাকায় এক মেডিকেল সেন্টারের সামনে বাইক রেখে পাঁচশো টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে প্রলয় মজুমদার নামে এক যুবককে। প্রলয়বাবুর অভিযোগ, পরিবহণ আইনে ভুল করলে জরিমানা দিতে হবে সবাই জানে। কিন্তু আমাকে যেখানে বাইক রাখায় খেসারত দিতে হল সেখানে কোনো নো-পার্কিং বোর্ডই ছিল না। নো পার্কিং জোন দেখলে কেউ সেখানে বাইক রাখবে না।