মহাকাশে রয়েছে মোট পাঁচটি ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট। এই পয়েন্টগুলি কী? এবং কীভাবে আবিষ্কার হল, জানালেন স্বরূপ কুলভী
মহাকাশে রয়েছে মোট পাঁচটি ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট। এই পয়েন্টগুলি কী? এবং কীভাবে আবিষ্কার হল, জানালেন স্বরূপ কুলভী
আদিত্য-এল১। ভারতের প্রথম সৌরযান। ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর ইসরো এই মহাকাশ যান উৎক্ষেপণ করে। লক্ষ্য হল সূর্যকে নিয়ে গবেষণা। পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে থেকে ওই যান সূর্যের দিকে নজর রাখছে। আদিত্য-এল১ রয়েছে ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্টে (এল ১ পয়েন্ট)। অন্যান্য মহাকাশ অভিযানেও এই ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্টের কথা উঠে আসে। প্রশ্ন তো মাথায় আসতেই পারে, এই বিশেষ পয়েন্টটা কী? একেবারে সরলভাবে বললে এই ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট হল মহাকাশে নিরাপদ পার্কিং স্পট। ছোট্ট বন্ধুরা, মনে করো, মাঠে খেলতে গিয়েছ সাইকেলে করে। সাইকেলটা কিছুটা দূরে একটা গাছের তলায় রেখেছ। খেলা শেষ করে ঠিক সেখান থেকেই সাইকেলটা নিয়ে বাড়ি ফিরলে। এর মানে হল, যে সুবিধাজনক জায়গায় সাইকেলটা রেখেছিলে, খেলার শেষে সেটি সেখানেই রয়েছে। তাই তো! আমাদের পৃথিবীতে এটা নিয়ে ভাবার কিছু নেই। একেবারে সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু মহাকাশ যাত্রায় যদি কোনো বস্তুকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে বলা হয় অর্থাৎ কোনো মহাকাশযানকে পার্কিং করাতে হয়, সেই কাজ কিন্তু একেবারেই সহজ নয়। কারণ মহাকাশে কোনো বস্তুই স্থির নয়। প্রতিটি বস্তুই একে অন্যের সাপেক্ষে গতিশীল। তাই মহাকাশে পার্কিং স্পট এমন হতে হবে, যা পৃথিবীর সাপেক্ষে স্থির। আবার ধরো, মহাকাশে চাঁদের সাপেক্ষে এই পার্কিং স্পট মানে তা চাঁদের সাপেক্ষে স্থির থাকবে। মহাকাশে এমন পার্কিং স্পটগুলিকে বলা হয় ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট। আর এই জায়গা কীভাবে খুঁজে পাওয়া সম্ভব? আর এর সন্ধান কোন বিজ্ঞানীরা দিয়েছিলেন?
মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুই একে অপরকে আকর্ষণ করে। একে বলে মহাকর্ষ। তবে দু’টি বস্তুর এই আকর্ষণের মাঝে এমন পাঁচটি পয়েন্ট থাকে, যেখানে পরস্পরের মধ্যে মহাকর্ষ বল নিখুঁতভাবে ভারসাম্য বজায় রাখে। মোট পাঁচটি ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট রয়েছে। এগুলিকে বলা হয় এল ১, এল ২, এল ৩, এল ৪ ও এল ৫। এই পয়েন্টগুলিতে মহাকর্ষ বল ও কেন্দ্রবিমুখ বল এমনভাবে কাজ করে, যেখানে রাখা যেকোনো বস্তু স্থির থাকে। সেজন্য এই জায়গাগুলিতে মহাকাশযান বা কৃত্রিম উপগ্রহ কোনো গ্রহ বা উপগ্রহ কিংবা নক্ষত্রের সাপেক্ষে স্থির থাকে। এটা একটা বড় সুবিধা। কারণ, এই ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্টে খুব কম জ্বালানিতে মহাকাশযান স্থির রাখা যায়।
আর এই পয়েন্টগুলি প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছিল বিখ্যাত ইতালীয়-ফরাসি গণিতবিদ জোসেফ লুইস ল্যাগরেঞ্জ। তাঁর নাম অনুসারেই ওই পয়েন্টগুলির নামকরণ হয়েছে। ১৭৭২ সালে প্রকাশিত গ্রন্থে তিনি এই পাঁচটি পয়েন্টের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীর সেরা গণিতবিদ ও জ্যোর্তিবিদ। তবে এর আগে সুইস গণিতবিদ লিওনহার্ড অয়লার সমরৈখিক তিনটি পয়েন্ট আবিষ্কার করেছিলেন।