সিওল, ২ নভেম্বর: পরিবেশকে রক্ষা করতে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে বহু সচেতনামূলক প্রচার চলে বিশ্বজুড়ে। সেই পথেই প্লাস্টিকের কাপ, থালা, বাটি কিংবা স্ট্রয়ের পরিবর্তে জায়গা করে নিয়েছে কাগজের তৈরি সামগ্রী। বাইরে থেকে দেখতে পরিবেশবান্ধব, ব্যবহারেও অনেকের কাছে নিরাপদ বিকল্প। কিন্তু সাম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গবেষণা যা ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে বিজ্ঞানী থেকে সাধারণ মানুষেরও। গবেষকদের দাবি, কাগজের স্ট্র তৈরিতে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক যা মানব শরীর থেকে শুরু করে পরিবেশকেও ঠেলে দিতে পারে এক বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে।
দক্ষিণ কোরিয়ার এক সরকারি গবেষণা সংস্থার একটি সমীক্ষায় প্লাস্টিক, কাগজ, এবং জৈব উৎস থেকে তৈরি পলিথিনের মতো বিভিন্ন ধরনের স্ট্রয়ের পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখেছে। সেখানে কাগজের স্ট্রয়ের ব্যবহার ও উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় উঠে আসা অন্যতম উদ্বেগের বিষয় হল পিএফএএস নামক এক কেমিক্যাল। যার পোশাকি নাম 'ফরএভার কেমিক্যাল'। এই রাসায়নিক যৌগগুলি প্রকৃতিতে সহজে নষ্ট হয়না। আবার সাধারণ রাসায়নিকের মতো মাটি বা জলে মিশে গিয়ে কিংবা তাপের সংস্পর্শে এসে দ্রুত ভেঙে যায় না। ফলে পরিবেশে দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে। শরীরে প্রবেশ করলেও কিছু পিএফএএস দীর্ঘ সময় ধরে জমা থাকার আশঙ্কা রয়েছে। যা ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগেরও সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়াও কিডনি, লিভারের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ইত্যদিও সৃষ্টি হতে পারে।
শুধু পিএফএএস নয়, কাগজের স্ট্র-তে মেলামাইন নামক এক রাসায়নিক নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কিছু কাগজের সামগ্রীতে ব্যবহৃত রং বা উপাদানে এই রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। অতিরিক্ত মাত্রায় মেলামাইন মানবদেহে যদি প্রবেশ করে তাহলে কিডনিরও ক্ষতি হতে পারে। তবে গবেষণার এই তথ্য থেকে সব ধরনের কাগজের কাপ, থালা বা বাটিই সমান ক্ষতিকর, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। কোন সামগ্রীতে কী ধরনের রাসায়নিক রয়েছে এবং কতটা পরিমাণে রয়েছে, তার উপরেই ঝুঁকি নির্ভর করে।



