শিশির ঘোষ: নচিকেতার ‘উলটো রাজার উলটো বুঝলি প্রজার দেশে’ গানটার কথা মনে আছে? শনিবার মোহন বাগানের খেলা দেখতে দেখতে বারবার সেই গানটার কথাই মনে হচ্ছিল। জয় সব সময়ই আনন্দের। পাঞ্জাব এফসিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে সবুজ-মেরুন। তবে প্রশ্ন হল, এই মোহনবাগানের সৃজনশীলতা কোথায়? দলের প্রতিটি মুভে মিগুয়েল ও ম্যাকলারেনের অভাব প্রবলভাবে ফুটে উঠছিল। অথচ দুই ফুটবলারই নেই। চোট সমস্যা বেশ ভোগাচ্ছে পালতোলা নৌকা ব্রিগেডকে। তাহলে প্রি-সিজনে হলটা কী? এত আগে অনুশীলন শুরু করেও ফুটবলারদের ফিটনেসের এই হাল কেন? একে উলটো দেশ না বলে আর কী বলা যায়! এর দায় অবশ্যই কোচকে নিতে হবে। হাফ ডজন সাপোর্টিং স্টাফ নিয়ে এত আয়োজন, এত ঢক্কানিনাদ। তার ফল কোথায়?
অবশ্য শুধু কোচকে কাঠগড়ায় তুলেও তো লাভ নেই। মধ্যম মানের ফুটবলারদের নিয়ে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনও ফুল ফোটাতে পারতেন না। এই যেমন লি আরউইন। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে প্রথম গোলটা ওরই। কিন্তু তারপর? একজন স্ট্রাইকার গোলকিপারকে একা পেয়েও ডাইনে-বাঁয়ে না মেরে দু’বার বল মারল সোজা হাতে! চিমা বা ওডাফারা এমন সুযোগ পেলে নেট ছিঁড়ে দিত। মনবীরকেও এখন বেশ একঘেয়ে লাগছে। সেই এক বল ছেড়ে দৌড়, তারপর বক্সে ঢুকে ডায়াগনাল কাট। ওর কাছ থেকে আরও বৈচিত্র আশা করি। তবে লিস্টনকে দেখে ভালো লাগল। ছেলেটা ছন্দে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। ও নামার পর মনে হচ্ছিল, মোহন বাগানকে কিছুটা ছন্দে দেখা গেল। এই পর্বে আক্রমণগুলো অনেক বেশি সুসংগঠিত লাগল। আরও ম্যাচ টাইম পেলে ওর আত্মবিশ্বাস যেমন ফিরবে, তেমনই লাভবান হবে দল। ড্রাজিচও বেশ পরিশ্রমী। চেষ্টা আছে। ভালো সময়েই গোলটা পেয়েছে। না হলে কোচ পানোসের ঘাড়ে চাপ আরও বাড়ত। তবে জেলকোভিচ মোটেও আহামরি নয়। মোহন বাগানের মতো বড় দলের জার্সির ওজন বহনের ক্ষমতা থাকা দরকার।
আক্রমণ ও মাঝমাঠের পাশাপাশি কোচ পানোসকে দলের রক্ষণ নিয়েও গভীরভাবে ভাবতে হবে। আলবার্তো ও বিশাল কাইথকে বাদ দিলে সবুজ-মেরুনের ডিফেন্স কার্যত তাসের ঘর। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়তে বেশি সময় লাগে না। রক্ষণের গড় বয়সও প্রায় ৩০। ফলে রাহুল ভেকে আগের তুলনায় অনেকটাই স্লথ। আর শুভাশিসের কথা যত কম বলা যায়, ততই ভালো। প্লেয়ার আসে, প্লেয়ার যায়। শুভাশিস তবু রয়ে যায়! জানি না, ওর প্রতি ম্যানেজমেন্টের এত প্রীতি কেন? শুভাশিস এখন অতীতের এক অস্পষ্ট ছায়া মাত্র। থিঙ্কট্যাঙ্ক যত দ্রুত এই সত্যিটা বুঝবে, ততই দলের মঙ্গল। সামনে এখনও গোটা মরশুম পড়ে রয়েছে। চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে টিকে থাকতে গেলে কোচ পানোসকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে।



