


সংবাদদাতা, ঘাটাল: বৃহস্পতিবার রাতে আচমকা দলছুট দু’টি হাতি চন্দ্রকোণা শহরে ঢুকে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরবাড়ি বাজারে দলছুট হাতি দু’টি ঢুকে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাণ্ড দুই দাঁতালের উপস্থিতিতে রীতিমতো হুলস্থুল কাণ্ড বেঁধে যায় গোটা শহরে। ছুটোছুটিতে পড়ে গিয়ে জখম হন অনেকে। আড়াবাড়ি রেঞ্জ থেকে আসা এই দাঁতাল দু’টি গড়বেতার আঁধারনয়ন বিট হয়ে ধামকুড়িয়া বিটের জঙ্গলে অবস্থান করছিল। সেখান থেকেই রাতের অন্ধকারে লোকচক্ষু এড়িয়ে চলে আসে শহরে। টাউন ক্লাবের মাঠে হাতি দেখতে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ ও বনদপ্তরের কর্মীদের। হাতির তাড়া খেয়ে ছুটে পালাতে গিয়ে অনেকেই পড়ে গিয়ে জখম হন। হাতির তাণ্ডবে শহরের কয়েকটি বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে, একটি পানীয় জলের নলকূপ নষ্ট হয়েছে। যদিও চন্দ্রকোণা-২ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি সেচ ও সমবায় কর্মাধ্যক্ষ জগজিৎ সরকার বলেন, হাতির তাণ্ডবে শহরের তেমন কিছু ক্ষতি হয়নি। বনদপ্তরের চন্দ্রকোণার রেঞ্জার বিদ্যুৎ সিং বলেন, রাতেই হাতি দু’টিকে শহর থেকে তাড়িয়ে ধামকুড়িয়া জঙ্গলের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অত রাতে শহরের অলিগলিতে আচমকা হাতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহানারা বিবি বলেন, জন্মেও কোনও দিন ভাবিনি আমাদের বাড়ির উঠোন অবধি হাতি চলে আসবে। ভাগ্যিস সময়মতো চোখে পড়েছিল, না হলে কী যে হতো কে জানে। একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন নাজিরা বিবিও। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অতি উৎসাহী জনতার তাড়া খেয়ে হাতি দু’টি দিগভ্রান্ত হয়ে একটি পাড়ার ভিতরে ঢুকে পড়ে। সেখানে একাধিক বাড়ির শৌচালয় ও বারান্দার অ্যাসবেস্টস ভেঙে দেয়। নষ্ট হয়েছে পানীয় জলের নলকূপ, বাগানের গাছপালা সহ কিছু ফসল। বাড়ির দোরগোড়ায় হাতি দেখে ভয়ে পালাতে গিয়ে পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছেন কয়েকজন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চন্দ্রকোণা থানার পুলিশ ও বনদপ্তরের হুলা পার্টি। টর্চের আলো আর মানুষের চিৎকারে অতিষ্ঠ হয়ে হাতি দু’টি ঠাকুরবাড়ি বাজার টাউন ক্লাবের মাঠ থেকে পাশের মাধবপুর গ্রামের দিয়ে চলে যায়। দফায় দফায় চেষ্টার পর রাত ১০টা নাগাদ হাতি দু’টিকে রামগড় হয়ে পুনরায় ধামকুড়িয়া জঙ্গলের দিকে পাঠাতে সক্ষম হন বনকর্মীরা। চন্দ্রকোণা শহরে হাতির তাণ্ডব। -নিজস্ব চিত্র।