Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলেজের দাবিতেই আবর্তিত হচ্ছে পাণ্ডুয়া-চণ্ডীতলার ভোট রাজনীতি

ভোট মরশুমে প্রচারপর্বে ঘুরে ফিরে আসছে কলেজের দাবি। হুগলির চণ্ডীতলা ও পাণ্ডুয়ায় শাসক থেকে বিরোধী, সকলেই আবর্তিত হচ্ছে ওই দাবির বৃত্তে।

কলেজের দাবিতেই আবর্তিত হচ্ছে পাণ্ডুয়া-চণ্ডীতলার ভোট রাজনীতি
  • ২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ভোট মরশুমে প্রচারপর্বে ঘুরে ফিরে আসছে কলেজের দাবি। হুগলির চণ্ডীতলা ও পাণ্ডুয়ায় শাসক থেকে বিরোধী, সকলেই আবর্তিত হচ্ছে ওই দাবির বৃত্তে। চণ্ডীতলার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই বিধানসভা এলাকায় একটিও কলেজ নেই। আর পাণ্ডুয়ার বাসিন্দারা বলছেন, একটি মহিলা কলেজ দরকার। ভোট মরশুমের আগে পর্যন্ত এনিয়ে কার কতটা মাথাব্যথা ছিল, তা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। তবে আপাতত, বিরোধীরা যেমন কোমর কষে নাগরিকদের দাবিকে সামনে এনে হইচই ফেলেছেন, তেমনই শাসকদলের তরফেও আওয়াজ উঠেছে। চণ্ডীতলায় শাসক শিবির বলছে, ওই বিষয়ে কাজ অনেকটা এগিয়েছে। আর পাণ্ডুয়ার শাসক শিবিরের দাবি, মহিলা কলেজের দাবি পূরণ করাই আগামী দিনে অন্যতম লক্ষ্য।

Advertisement

চণ্ডীতলার সিপিএম প্রার্থী শেখ আসিফ আলি এবং বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের নির্বাচনী ঘোষণার অন্যতম অংশ, একটি ডিগ্রি কলেজ স্থাপন করা। দেবাশিস বলেন, বহু বছর ধরে বাম না হলে তৃণমূল কংগ্রেস চণ্ডীতলা বিধানসভা আসনটি দখল করে রেখেছে। কিন্তু কেউই এলাকাবাসীর মানুষের জন্য একটি কলেজ করে দেয়নি। শিক্ষা ব্যবস্থাকেই তৃণমূল হিমঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে। তারপরেও নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কলেজ খুবই প্রয়োজন। সেটাই আমার প্রথম প্রতিশ্রুতি। আসিফ আলি বলেন, আমাদের সময়ে কলেজ তৈরির পরিকল্পনা অনেকটা ‌এ঩গিয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতায় এসে সেই প্রকল্পকে বাস্তবায়ন করেনি। এবারের নির্বাচনি ইস্তাহারে তাই আমরা কলেজ করার প্রতিশ্রুতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূলের প্রার্থী স্বাতী খোন্দকার বলেন, চণ্ডীতলায় কলেজ তৈরি নিয়ে পরিকল্পনা অনেক দূর এগিয়েছে। বিরোধীরা সেই খবর কোনোভাবে পেয়ে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে। আমরাও কলেজের পক্ষে এবং তা করা হবে। একটি আইটিআই কলেজ করার কাজেও আমরা অনেকটা এগিয়েছিলাম। জমিজটে তা করা যায়নি।
পাণ্ডুয়ার চিত্রটা কতকটা একই। পাণ্ডুয়ার সিপিএম প্রার্থী আমজাদ হোসেন বলেন, তৃণমূলের পরিকল্পনার অভাবের জন্যই নাগরিকদের দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। পাণ্ডুয়ায় মহিলা কলেজের অভাবের কারণে ছাত্রীদের কষ্ট করে অন্যত্র পড়তে যেতে হয়। বিজেপি প্রার্থী তুষার মজুমদার বলেন, মহিলা কলেজ করার দাবি আমাদেরও। শুধু প্রচার নয়, বাস্তবায়নের কাজও আমরা করব। তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তী বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাজ করার জন্যই বিধায়ককে নির্বাচন করেন। পাণ্ডুয়ার মানুষের দাবি যদি হয়, তাহলে মহিলা কলেজ করতে হবে, তার জন্য চেষ্টার ত্রুটি রাখা হবে না। নাগরিকদের দাবি পূরণই আমার দায়িত্ব।
পাণ্ডুয়া বিধানসভায় কলেজ নেই, তা নয়। কিন্তু ছাত্রীদের সুবিধার্থে বেশ কিছু বছর ধরে মহিলা কলেজের দাবি উঠেছে বারবার। অন্যদিকে, চণ্ডীতলা বিধানসভা এলাকায় আজ পর্যন্ত কোনো কলেজ গড়ে ওঠেনি। ভোট মরশুমে দুই বিধানসভা আসনেই তাই প্রচারের অভিমুখ হয়ে উঠেছে কলেজ গড়ার প্রতিশ্রুতি। 

সম্পর্কিত সংবাদ