নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: চাহিদা অনুযায়ী সব শ্রমিক যাতে কাজ পায়, তা পঞ্চায়েতগুলিকে নিশ্চিত করতে হবে। ভিবি জিরামজি নিয়ে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের কর্তারা এব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। জেলাস্তরে বৈঠক করেও সব গ্রামে কাজ শুরু করা যাচ্ছিল না। সেই কারণে এবার মহকুমা, ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েত ভিত্তিক বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) তথা ভিবি জিরামজি-র দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক চিরন্তন প্রামাণিক বলেন, আপাতত আমরা মহকুমা ভিত্তিক বৈঠক করছি। মঙ্গলবার খাতড়া মহকুমায় বৈঠক হয়। যত বেশি সম্ভব শ্রমিককে আবেদনের ভিত্তিতে কাজ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিবি জিরামজি প্রকল্পে শ্রম দিবস সৃষ্টিতে বাঁকুড়া জেলা রাজ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। তা সত্ত্বেও জেলার সব গ্রামে এখনো কাজ শুরু করা যায়নি। অথচ আগে যখন ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প ছিল, তখন সব গ্রামে কমবেশি কাজ হত। গ্রাম সংসদভিত্তিক কাজের রূপরেখা আগাম তৈরি হয়ে থাকত। সেইমতো শ্রমিকরা কাজ পেতেন। এখন বাৎসরিক জবকার্ড পিছু কাজের পরিমাণ বেড়ে ১২৫ দিন হয়েছে। তবে সব শ্রমিককে কাজ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কাজে গতি আনতে এর আগে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের তরফে ব্লক ও পঞ্চায়েতের কর্মী-আধিকারিকদের নিয়ে ‘নৈশ বৈঠক’ করা হয়েছিল। ধারাবাহিক বৈঠকে কাজের এলাকা বৃদ্ধি পায়। তবে তা আশাব্যঞ্জক নয় বলে খোদ জেলা প্রশাসনের কর্তারা স্বীকার করে নিয়েছেন। সেই কারণে বর্তমানে মহকুমাস্তরে গিয়ে জেলার আধিকারিকরা বৈঠক করছেন। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, এতদিন মহকুমা শাসকরা ১২৫ দিনের কাজে খুব একটা মাথা ঘামাতেন না। বিডিওরা যা কিছু করার করতেন। এবার থেকে আমরা এসডিওকেও ময়দানে নামাতে চাইছি। তাঁর আওতায় থাকা ব্লকগুলিতে এসডিও যাতে নজরদারি চালান, তারজন্য বলা হবে। বর্তমানে জেলার তিন মহকুমার মধ্যে বিষ্ণুপুর ওই প্রকল্পে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। তুলনায় জঙ্গলমহলের রাইপুর সহ কয়েকটি ব্লকে ভাল কাজ হয়েছে। আগামী দিনে যাতে সব ব্লক সমান তালে এগিয়ে যেতে পারে তারজন্যই নিবিড় বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে।



