


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের বিনপুর-২ ব্লক পাহাড়, অরণ্য অধ্যুষিত এলাকা। এখানে মূলত আদিবাসী মানুষের বসবাস। একসময় অভাবের মধ্যে এখানকার মানুষের দিন কাটত। আমলাশোলে পাঁচ গ্রামবাসীর অনাহারে মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যে তোলপাড় ফেলেছিল। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছবিটা বদলাতে শুরু করে। রাস্তা তৈরি, বিদ্যুৎ, পানীয় জল সরবরাহ, গ্ৰামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়ন, সৌরচালিত পাম্প বসানোর কাজ চলছে। বিনপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতি উন্নয়নের কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে।পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র সর্দার বলেন, রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানীয় জল সরবরাহে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ধানের পাশাপাশি বিকল্প ফসল চাষে স্থানীয় কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। আদিবাসীদের উন্নয়নে নানা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। মানুষ যাতে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পান, সেটা দেখা হচ্ছে। বিনপুর-২ ব্লকের মাটি অনুর্বর ও পাথুরে। গ্ৰীষ্মকালে জলস্তর নেমে যায়। বাম আমলের অনুন্নয়ন স্থানীয় মানুষকে দারিদ্র্য ও অনাহারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। সেজন্য ঘাসফুল শিবিরের উপর এলাকার মানুষ আস্থা রাখেন। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর সন্ত্রাসের রাজনীতি সরিয়ে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। এতে অগ্রণী ভূমিকা নেয় বিনপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতি। এরগোদা, শিলদা, আদগারী, মাজগেরিয়া, ভুলাভেদা, কেন্দাপাড়া, গিধিঘাটী, লাবণীর মতো প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটে। ব্লকের পাঁচ শতাংশ পলিমাটি সমৃদ্ধ এলাকায় সৌরচালিত পাম্প বসিয়ে চাষে জোর দেওয়া হয়। বেলপাহাড়ীর গোয়ালবেড়া, বাঁশকেট্যা এলাকায় সেচের জলের অভাব ছিল। পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে এলাকায় সৌরচালিত সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হয়েছে। অনাবাদি জমিতে চাষবাস শুরু হয়েছে। ডেনকিয়া শবরপাড়া, ভীমার্জুন, তুলসীবনী গ্ৰামের বাসিন্দারা এতদিন পাতকুয়োর জল খেতেন। সাবমার্সিবল বসানোর পর তাঁরা পরিস্রুত জল পাচ্ছেন। ব্লকের প্রত্যন্ত সিয়ারবিন্দা, জাম্বনী, কালাপাথর গ্ৰামে পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে কংক্রিটের রাস্তা তৈরি হয়েছে। আদিবাসী মহিলাদের তৈরি হস্তশিল্পের সামগ্রী বিক্রিতে জনপ্রতিনিধিরা সবরকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। পঞ্চায়েত সমিতির তরফে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের পরিধি বাড়াতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের কাছে নানা প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। যার মধ্যে পর্যটন প্রসারের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র