


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্পূর্ণ রাজ্যের খরচে চলা ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের আওতায় তৈরি হয়েছে কয়েক হাজার কিলোমিটার রাস্তা। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা (পিএমজিএসওয়াই) ৩ এবং রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (আরআইডিএফ) অধীনে বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকার কাজ চলছে। সেই কাজ নির্দিস্ট সময়ে শেষ করার লক্ষ্যে এবার ২২ জেলায় প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে পঞ্চায়েত দপ্তর। জানা গিয়েছে, বর্ষার আগেই এই সমস্ত রাস্তার কাজ শেষ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসেই এই দলের সদস্যরা জেলায় জেলায় গিয়ে কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন। যেখানে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়, সেই জেলায় বিশেষ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও সূত্রের খবর। তিনটি পরিদর্শন দলে রয়েছেন পঞ্চায়েত দপ্তরের ছ’জন পদস্থ আধিকারিক। প্রথম দলটি যাবে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, মালদহ, মূর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ও উত্তর দিনাজপুর জেলায়। দ্বিতীয় দলের দায়িত্বে রয়েছে পশ্চিম বর্ধমান, বীরভুম, পূর্ব মেদিনীপুর, দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিপষদ, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, এবং জলপাইগুড়ি জেলা। তৃতীয় দলের আধিকারিকরা খতিয়ে দেখবেন নদীয়া, হুগলি, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাজের অগ্রগতি। রাজ্যের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পিএমজিএসওয়াই ৩-এর অধীনে বর্তমানে ৩৩০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪০০টি প্রকল্পের কাজ চলছে। এর জন্য কেন্দ্র ১৪৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। রাজ্য দিয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, আরআইডিএফ-এর ৭০০ কোটি টাকায় চলছে ১০৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ১৪৮টি গ্রামীণ সড়ক নির্মান ও সংস্কারের কাজ।
প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, পিএমজিএসওয়াই ৩-এর অধীনে প্রায় ২০০০ কোটি টাকা অর্থমূল্যের ১২০০ কিলোমিটার কজের অনুমোদন আটকে রেখেছে মোদি সরকার। বর্তমানে যে কাজগুলি চলছে, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হলে কেন্দ্রের কাছে বাকি কাজের অনুমোদনের জন্য দাবি আরও জোরালো করা যেতে পারে। ইতিমধ্যে ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ হেল্পলাইনের মাধ্যমে বিগত এক বছরে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার গ্রামীণ রাস্তা সংস্কারের আবেদন এসেছে। আবেদনগুলি যাচাইয়ের কাজ চলছে। ফলে, ‘পথশ্রী’ বা অন্য কোনও নামে রাজ্যের নিজস্ব খরচে নতুন করে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যচ্ছে না। নবান্ন থেকে সেরকম নির্দেশ আসার আগেই রাস্তা সংক্রান্ত অন্যান্য কাজ পঞ্চায়েত দপ্তর সেরে রাখতে চাইছে বলে মত প্রশাসনিক মহলের।