Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফাঁসিরঘাটে খোয়া যাওয়া পঞ্চানন বর্মার মূর্তি ‌এখনও মেলেনি, ক্ষোভ

কোচবিহারে মনীষী পঞ্চানন বর্মার আবক্ষ মূর্তি গায়েবের ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিভিন্ন মহল। এর পিছনে গভীর কোনও চক্রান্ত রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ফাঁসিরঘাটে খোয়া যাওয়া পঞ্চানন বর্মার মূর্তি ‌এখনও মেলেনি, ক্ষোভ
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারে মনীষী পঞ্চানন বর্মার আবক্ষ মূর্তি গায়েবের ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিভিন্ন মহল। এর পিছনে গভীর কোনও চক্রান্ত রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। না হলে এমনভাবে মূর্তি উপড়ে নিয়ে যাওয়া হবে কেন? তাই অনেকেই দাবি করছেন পুলিশ ওই মূর্তিটি খুঁজে বের করুক ও দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করুক। বিশিষ্ট পঞ্চানন অনুরাগী তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন জানিয়েছেন, ৯ সেপ্টেম্বর পঞ্চানন বর্মার তিরোধান দিবসের দিনই সেখানে মূর্তি স্থাপন করা হবে। এদিকে, কোচবিহার কোতোয়ালি থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মূর্তির কোনও হদিশ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এমনকী এই ঘটনার কোনও ‘ক্লু’ পুলিশ পাচ্ছে না। তোর্সা নদীর পাড়ে থাকা ওই মূর্তিটি যদি দুষ্কৃতীরা জলে ফেলে দেয় তাহলে সেটা খুঁজে পাওয়া কঠিন। 

Advertisement

উল্লেখ্য, শনিবার ভোরে কোচবিহারের শুকটাবাড়ি ও ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সীমানায় ফাঁসিরঘাটে রায় সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার আবক্ষ মূর্তিটি রীতিমতো স্তম্ভ থেকে উপড়ে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। ওই দিন সকাল সকাল স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে ওই ঘটনা ধরা পড়তেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, দলের জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন সকালেই এলাকায় পৌঁছে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। পরে তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়ও ঘটনাস্থলে আসেন। ওই দিনই অভিজিৎবাবু সেখানে মূর্তি প্রতিস্থাপন করা হবে বলে জানিয়ে যান। এদিকে, বেশ কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখানো, ঘটনাস্থল ইতিমধ্যেই পরিদর্শন করা হয়েছে। সকলেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দোষীদের গ্রেপ্তার ও এর পিছনে ঠিক কি উদ্দেশ্য রয়েছে তা জানতে চাইছেন। 
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, এটা কারও চক্রান্ত। ঠান্ডা মাথায় পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক এটা করা হয়েছে। যে জায়গায় মূর্তিটি ছিল সেখান থেকে মূর্তি নিয়ে যাওয়াটা যথেষ্ট সন্দেহজনক। পুলিশ তদন্ত করুক। যেই উদ্যোগ নিন ওই জায়গায় দ্রুত মনীষীর মূর্তি বসানো উচিত। 
উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায় বলেন, মনীষী পঞ্চানন বর্মার মূর্তি উধাও হয়ে গিয়েছে। সেই জায়গায় তাঁর পূর্ণাবয়ব ব্রোঞ্জের মূর্তি স্থাপন করা হোক। প্রয়োজনে উদ্যোক্তারা চাইলে আমরাও সাহায্য করতে পারি। পুলিশ পুরনো মূর্তিটিও উদ্ধার করুক। কারা করেছে সেটা খুঁজে বের করুক। 
এদিকে, পঞ্চানন অনুরাগী গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, পঞ্চানন বর্মাই ষড়যন্ত্রের শিকার। মনীষীর তিরোধান দিবসেই আমরা তাঁর মূর্তি সেখানে বসাব। ওই মূর্তি শীতলকুচি থেকে নিয়ে আসা হবে।  নিজস্ব  চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ