নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শালপাতা, গাছের ছালের মতো পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে স্বপ্নের দেশ। সৃষ্টি থেকে ধ্বংস, পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যাওয়ার নানা পর্বকে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে থিমের মাধ্যমে। এবার দুর্গাপুজোয় থিম ভাবনায় রীতিমতো টক্কর দিতে চলেছে হাওড়া শহরের দুই পুজো কমিটি।
স্বাধীনতারও বেশ কয়েক বছর আগে থেকে হাওড়া শহরে পুজোর আয়োজন করে আসছে বেলিলিয়াস লেনের জাতীয় সেবা দল। হাওড়ার বড় ও ঐতিহ্যবাহী দুর্গা পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম এই ক্লাব। এবছর তাদের ৯৩তম পুজো। সাবেকি দেবী মূর্তিতে বদল না হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বেশ কয়েক বছর আগেই থিমের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে জাতীয় সেবা দল। এবছর তাদের থিম ‘স্বপ্নের দেশে’। মণ্ডপে প্রবেশ করতেই দর্শনার্থীরা পৌঁছে যাবেন শ্বেত-শুভ্র মেঘের কোলে। স্বপ্নের মতো নির্মল দেশে জীবনের প্রশান্তি খুঁজে পাবেন তাঁরা। এমনটাই জানালেন পুজোর উদ্যোক্তা মানবেন্দ্র মালিক ও তমাল সামন্ত। পরিবেশবান্ধব শালপাতা, গাছের ছাল, সাদা তুলো দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপের অন্দরসজ্জা। পুজোর বাজেট ৩৭ লক্ষ টাকা। ক্লাবকর্তারা বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে অস্থির পরিস্থিতিতেও এই ক্লাবের পুজো বন্ধ হয়নি। মণ্ডপের চাইতেও প্রতিমা দেখতে সবথেকে বেশি ভিড় হয় এখানে।’ ১৪ ফুট উচ্চতার একচালায় ডাকের সাজ দেবীর। প্রতিমা তৈরি করছেন কুমোরটুলির সনাতন রুদ্র পাল।
অন্যদিকে ৪২তম বর্ষে এবছর থিম ভাবনায় চমক দিতে চলেছে সাঁতরাগাছি কল্পতরু স্পোর্টিং ক্লাব। থিমের নাম ‘অনন্ত সৃষ্টি’। মণ্ডপের ভিতরে তৈরি করা হচ্ছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। প্রতীকী রূপে একটি গাছকে ‘প্রাণ’ হিসেবে দেখানো হবে। গাছ ধ্বংস হওয়ার পর আবার সেখানে কী করে নতুন অঙ্কুরোদগম হয়, সৃষ্টি থেকে সংহারের নানা পর্যায় ফুটে উঠবে এই ক্লাবের মণ্ডপসজ্জায়। একইভাবে প্রতিবছর নতুন নতুন অসুরকে বধ করতে সৃষ্টি হয় দেবী শক্তির। ক্লাবের থিম ভাবনার দায়িত্বে রয়েছেন শান্তনু ভট্টাচার্য। এই পুজোর বাজেট প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। কমিটির তরফে অভিজিৎ চৌধুরী, সুজিত দত্ত বলেন, ‘গত কয়েক বছরে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। আশা করছি, এবার ভিড় দ্বিগুণ হবে।’