সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: পর্যটন মানচিত্রে কালনা বহু আগেই জায়গা করে নিয়েছে। দেশ-বিদেশের পর্যটরকরা এখানে এসে প্রাচীন স্থাস্পত্য দর্শন করে মুগ্ধ হন। বেশ কয়েক বছর ধরে কালনার বাসিন্দারা মজা করে তাঁদের বলেন, সময় থাকলে শহরের ঘটকপাড়া একটু ঘুরে আসতে পারেন। দেখতে পাবেন নতুন স্থাপত্য। সেটিও একটি দ্রষ্টব্য। সেটি ‘পল্টু জমিদার’-এর বাড়ি! জমিদারি প্রথা বিলোপ হয়েছে ১৯৫০ সালে। কিন্তু, দেড় দশকের তৃণমূল জমানায় অনেক ‘নব্য জমিদার’-এর আবির্ভাব ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলায়। তাঁদের একজন দেবপ্রসাদ বাগ। তবে, কালনায় পল্টু নামে তিনি সমধিক পরিচিত। ভাগ্যিস রাজ্যে পালাবদল হয়েছে! তা না হলে পল্টুর ‘জমিদারিত্ব’ চাক্ষুস করার সৌভাগ্য হতো না কারও। সৌজন্যে পল্টুর শ্রীঘর যাত্রা। মঙ্গলবার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। কোমরে দড়ি বেঁধে প্রতাপশালী তৃণমূল নেতা থুড়ি ‘জমিদারবাবু’কে নিয়ে যায়। আর রাত থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন ভিড় করতে শুরু করেন ঘটকপাড়ায়। হাঁ হয়ে তাকিয়ে থাকছেন পল্টুর প্রাসাদের দিকে। সকলের মধ্যেই ফিসফাস—পুরসভার চেয়ারম্যান হলেই কি এভাবে ‘জমিদার’ হওয়া যায়! দর্শকদের মধ্যে অনেক প্রবীণ মানুষজনও ছিলেন। যাঁরা পল্টুকে ছোট থেকে বড় হতে দেখেছেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণ একটু অন্যরকম। বলছেন, বছর কয়েক আগেও রেডি-টিভি সারাই করে যে ছেলেটার সংসার চলত, তাঁর এহেন ‘রাজপ্রাসাদ’! বাইরে বেরোলে তাঁর ‘জমিদারি’ মেজাজ। পোশাক-আশাকেও ‘ব্র্যান্ডেড সিগনেচার’। ছেলেটাকে দেখলেই মনের ভিতর কেমন একটা ঘোর ঘিরে আসে। পল্টুর ‘রাজপ্রসাদ’-এর অন্দরমহলে ঢোকার সুযোগ যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদের ঘোর লাগা আরও একটু বেশি। এমন ক’জন পড়শির মুখে শোনা, গোটা বাড়িটাই সেন্ট্রালি এসি। দামি মার্বেলে মোড়া প্রতিটি ঘর। সাজানো গোছানো দামি আসবাবপত্রে। শৌচালয়ে ফিল্টার করা জল। অর্থাৎ, প্রাত্যহিক শৌচকর্ম থেকে স্নান—সবই হয় জীবানুমুক্ত পরিস্রুত জলে!



