


নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন: রণহুঙ্কার। পরমাণু হামলার হুমকি। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের পর এবার ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন প্রাক্তন পাক বিদেশমন্ত্রী বিলাবল ভুট্টো জারদারি। সিন্ধু জলচুক্তি বাতিলের ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি তাঁর কণ্ঠেও। তবে শত হুমকি ও পরমাণু হামলার জুজু দেখিয়েও ভারতের কঠোর অবস্থান যে বদলানোর নয়, তা বুঝে গিয়েছে ইসলামাবাদ। এই অবস্থায় এবার সিন্ধু জলচুক্তি অবিলম্বে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানোর ‘অনুরোধ’ জানিয়ে ভারতের দ্বারস্থ পাক বিদেশ মন্ত্রক।
শুরুটা করেছিলেন আসিম মুনির। পরমাণু যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ডুবতে হলে অর্ধেক বিশ্বকে নিয়ে ডুবব। ভারত সিন্ধুর জল আটকাতে বাঁধ নির্মাণ করলে মিসাইল দেগে তা ধ্বংস করা হবে। আমেরিকার মাটি থেকে পাক সেনাপ্রধানের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় ভারত। সেই সঙ্গেই নয়াদিল্লি জানায়, এধরনের ভুয়ো হুমকি পাকিস্তানের পুরনো অভ্যাস। ভারত তাতে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেয় না। মুনিরের সুরেই হুমকি দিয়েছেন বিলাবল ভুট্টো। তাঁর বক্তব্য, ভারত সরকারের পদক্ষেপে পাকিস্তানের বিশাল ক্ষতি হয়েছে। এই অগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ছ’টি নদীর জল ফিরিয়ে আনার মতো শক্তি পাকিস্তানের জনতার রয়েছে। ভারত যদি অবস্থান বদল না করে তাহলে জাতীয় স্বার্থরক্ষায় আমাদেরও যুদ্ধ সহ সব রাস্তা খোলা রাখতে হবে।
তবে হুমকিতে কাজ হচ্ছে না বুঝেই দ্রুত সুর নরম ইসলামাবাদের। এক্স হ্যান্ডলে পাক বিদেশ মন্ত্রকের পোস্ট, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তিকে দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানো হোক। ভারতের কাছে এটাই আমাদের আর্জি। চুক্তি সংস্কান্ত দায়বদ্ধতা সম্পূর্ণভাবে পালন করুক ভারত। উল্লেখ্য, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর সিন্ধু জলচুক্তি বাতিলের ঘোষণা করেছিল ভারত। নয়াদিল্লির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশনের দ্বারস্থ হয়েছিল ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের দাবি, গত ৮ আগস্ট সেই আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল পশ্চিমমুখী নদীগুলির প্রবাহ অবাধ রাখতে হবে। যাতে সেই জল পাকিস্তান বিনা বাধায় ব্যবহার করতে পারে। যদিও দিল্লি সাফ বলেছে, পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশনকে ভারত স্বীকৃতিই দেয় না। ফলে কোনওভাবেই হাতে পানি মিলছে না বুঝেই এবার জল চেয়ে ভারতের কাছে এল পাক বিদেশ মন্ত্রকের এই অনুরোধ।