নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪৫। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুরিদকেতে হামলা চালায় ভারতীয় সেনা। প্রথম মিসাইল এসে পড়ে সেখানেই। তারপর একে একে আরও তিনটে। প্রত্যাঘাতের সেই রূপ দেখে কেঁপে ওঠে গোটা পাকিস্তান। আর চোখের সামনে থেকে যাঁরা তা দেখেছেন তাঁদের অনেকেই সেই হাড়হিম অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি ভাইরাল। বুধবার এক পাক যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘রাত ১২টা ৪৫ নাগাদ একটি ড্রোন এল। তারপর আরও তিনটি। ওরা (ভারত) মসজিদে হামলা চালিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেল।’ স্বচক্ষে এই দৃশ্য দেখে কার্যত বাকরুদ্ধ হয়ে যান ওই যুবক সহ পাকিস্তানের সাধারণ নাগরিকরা। বুধবার সকালে ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে ওই যুবককে তাঁর সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে শোনা গিয়েছে।
অন্যদিকে আরও একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। বাইক নিয়ে বেশ কয়েকজন যুবক বেরিয়েছেন। হঠাৎ করেই দূরে আকাশ থেকে এসে পড়ল আগুনের গোলা। আলো জ্বলে উঠে তারপরই গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ভরে গেল। দেখা যাচ্ছে, এলাকায় অজস্র মানুষ দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তবে হামলার পরই মুহূর্তের মধ্যে তাঁরা বাইকে করে, ছুটে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই সেই আতঙ্কের কথা তুলে ধরেছেন। এক ব্যক্তি বলেন, ‘বাইরে বিকট শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম। বুঝেছিলাম কিছু একটা হচ্ছে। আমার মতো অনেকেই সেইসময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে। হঠাৎ করেই দেখলাম দূরে একটি মিসাইল এসে পড়ল। সেই আওয়াজে আর কিছুই শুনতে পাচ্ছিলাম না। প্রাণভয়ে এলাকা ছেড়ে ছুটে পালিয়ে যাই। আমার মতো তখন আরও অনেকেই ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছেন।’
এঁদের মতো আরও অনেকেই ভারতের সেই প্রত্যাঘাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। কেউ চোখের সামনে থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখেছেন, তো কেউ ঘরের মধ্যে আতঙ্কে মিসাইলের বিকট আওয়াজ শুনেছেন। তবে বুধবার সকালে উঠে সকলের মুখেই এক কথা। ‘গোটা রাত দু’চোখ এক করতে পারিনি। আবার কখন না আরও একটা মিসাইল এসে পড়ে।’