


নয়াদিল্লি: সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল পাক জঙ্গি। প্রথমে ঘাঁটি গেড়েছিল শ্রীনগরে। হ্যান্ডলারদের বড়োসড়ো নাশকতার পরিকল্পনা থাকলেও তা ভেস্তে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। গত মাসে গ্রেপ্তার করা হয় মহম্মদ উসমান জাট নামে ওই লস্কর জঙ্গিকে। জেরায় সে জানিয়েছে, জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কাশ্মীর নিয়ে যা যা বলা হয়েছিল, এখানে এসে দেখছি সব মিথ্যা। নিজেকে নতুন করে চিনতে শিখেছি। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরেই চুল পড়ার সমস্যার ভুগছিল উসমান। শ্রীনগরে এসে টাকে চুল প্রতিস্থাপনও করেছে সে।
জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ সূত্রে খবর, জম্মু ও কাশ্মীরের বাইরে স্লিপার সেল তৈরি করে নাশকতা ছড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ওই জঙ্গিকে। সেইমতো মূলত লাহোরের বাসিন্দা উসমান ওরফে চাইনিজকে ভারতে পাঠিয়েছিল লস্কর-ই-তোইবার হ্যান্ডলাররা। কিন্তু, সীমান্ত পেরিয়ে কাশ্মীরে প্রবেশ করে উপত্যকাবাসীর দৈনন্দিন জীবন চাক্ষুস করতেই তার মানসিকতা বদলে যায়। ধৃত জঙ্গি জেরায় জানিয়েছে, শ্রীনগরে থাকার সময় পাক জঙ্গি জারাগাম ও আবদুল্লা ওরফে আবু হুরাইরার সঙ্গে তার আলাপ হয়। জারাগামের সঙ্গে স্থানীয় একটি দোকানে গিয়েছিল সে। সেখানে দোকান মালিকের সঙ্গে তার আলাপ জমে যায়। আলাপচারিতার মাঝে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি চুল প্রতিস্থাপন করেছেন। তারপর থেকে বারবার ওই দোকানে যেত উসমান। মালিকের সঙ্গে চুল প্রতিস্থাপনের ক্লিনিকের জোগাড় করে সেখানে যায় ধৃত জঙ্গি। চুল প্রতিস্থাপনও করে। তারপর আবদুল্লার সঙ্গে পাঞ্জাবের মালেরকোটলা চলে যায়। সেখানে কিছুদিন কাটানোর পর ভারত থেকে পালানোর পরিকল্পনা করে সে। কিন্তু, তার জন্য আসল আধার ও প্যান কার্ড দরকার। এব্যাপারে উমর ওরফে খরগোশ নামে আর এক জঙ্গিকে অনুসরণের পরিকল্পনা করে উসমান। উমর জয়পুর থেকে অবৈধ উপায়ে পরিচয়পত্র বানিয়ে মালয়েশিয়া চলে গিয়েছিল। একই পরিকল্পনা ছিল উসমানেরও। সেইমতো এগতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় সে।