


কাবুল: সংঘর্ষ বিরতি শেষ হতেই আফগানিস্তানে হামলা চালাল পাকিস্তানি সেনা। শুক্রবার রাতে পশ্চিম আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পাকতিকা প্রদেশের তিন জায়গায় বোমাবর্ষণ করে পাক সেনা। হামলায় দুই শিশু সহ ১০ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন তিন তরুণ ক্রিকেটার। আহতের সংখ্যা কমপক্ষে ১২। মৃত ক্রিকেটারদের নাম কবীর, সিবঘাতুল্লা এবং হারুন। এর মধ্যে কবীরকে জাতীয় দলে খেলানোর পরিকল্পনা করেছিলেন নির্বাচকরা। তিন ক্রিকেটারের মৃত্যুর প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ত্রিদেশীয় সিরিজে না খেলার কথা ঘোষণা করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। পাশাপাশি তালিবান সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানের হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া দেওয়া হবে।
তবে সংঘাতের মধ্যেই কাতারের রাজধানী দোহায় ‘শান্তি-বৈঠক’ হচ্ছে আফগান ও পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ‘যুদ্ধ’ থামাতে মধ্যস্থতার বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি বলেছেন, ‘আমি জানি পাকিস্তানই হামলা চালিয়েছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে। আমার কাছে এর সহজ সমাধান রয়েছে। এখন আমাকে আমেরিকা পরিচালনা করতে হচ্ছে। তবে আমি যুদ্ধ থামাতে ভালোবাসি।’ ফের আটটি যুদ্ধ থামানোর প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গত এক সপ্তাহ ধরেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। তাতে দু’পক্ষেরই প্রাণহানি ঘটেছে। গত বুধবার দু’পক্ষ ৪৮ ঘণ্টার সংঘর্ষ বিরতিতে সম্মত হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই সময়সীমা পেরতেই হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনা। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, তিন ক্রিকেটারেরই বাড়ি পাকতিকা প্রদেশের উরগুন এলাকায়। শুক্রবার তাঁরা শারানে প্রীতি ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার সময় পাক হামলার মুখে পড়েন তিনজন। আরও পাঁচজন ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। তবে তালিবান সরকারের অভিযোগ, সংঘর্ষ বিরতি ভেঙে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। পালটা তালিবান সরকারের উদ্দেশে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির।
এদিকে, পাকিস্তানে বসবাসকারী আফগানদের অবিলম্বে দেশ ছাড়তে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্কের যুগ এখন অতীত। আসিফ বলেছেন, ‘আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক অনেক পুরোনো। তবে ওদের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক কোনওদিনই ছিল না। তবু লক্ষ লক্ষ আফগান আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। যদি ওদের ভারতের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক থাকে, তাহলে আফগানরা ভারতে চলে যাচ্ছে না কেন?’ পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, পাকিস্তানে শুধু ২৫ কোটি পাকিস্তানি নাগরিকই বসবাস করবে। কাবুল ভারতের হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘ছায়াযুদ্ধ’ চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পাক হামলার পর বিধ্বস্ত পাকতিকা প্রদেশের বাড়ি।