Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

গাজায় সেনা পাঠাক পাকিস্তান, ট্রাম্পের প্রস্তাবে ফাঁপরে মুনির

এই পরিস্থিতিতে গাজায় পুনর্গঠন ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের একগুচ্ছ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

গাজায় সেনা পাঠাক পাকিস্তান, ট্রাম্পের প্রস্তাবে ফাঁপরে মুনির
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৫:১২
Prefer us on Google

ইসলামাবাদ: ইজরায়েলি হামলায় তছনছ অবস্থা গাজার। এই পরিস্থিতিতে গাজায় পুনর্গঠন ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের একগুচ্ছ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারই অংশ হিসেবে পাকিস্তানকে গাজায় সেনা পাঠানোর অনুরোধ করেছেন তিনি। এতে শাঁখের করাতে পড়েছে ইসলামাবাদ। এব্যাপারে এককথায় রাজি হয়ে যাওয়া পাকিস্তানের চিফ অব আর্মি স্টাফ আসিম মুনিরের কাছে খুবই কঠিন। কারণ, গাজায় সেনা পাঠালে ঘরে-বাইরে প্রবল চাপের মুখে পড়তে হবে তাঁকে। আর না পাঠালে ক্ষুন্ন হতে পারেন ট্রাম্প। ফলে ‘শ্যাম রাখি না কূল রাখি’ দশা মুনিরের। 
ওয়াশিংটনের আটলান্টিক কাউন্সিলের সাউথ এশিয়া বিভাগের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুজেলম্যানের মন্তব্যেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান সেনা না পাঠালে ট্রাম্প রেগে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক সাহায্য ও বিনিয়োগে ধাক্কা লাগতে পারে। সূত্রের খবর, এব্যাপারে অন্যান্যদের মনোভাব বুঝতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, জর্ডন, মিশর, কাতারের মতো দেশের সেনা আধিকারিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। 

Advertisement


অপারেশন সিন্দুরের পর এমনিতেই ব্যাকফুটে রয়েছে পাক সেনা। ভারত হুঁশিয়ারির সুরে বলেই রেখেছে, অপারেশন সিন্দুর শেষ হয়নি। পাক সেনা ফের জঙ্গিদের মদত দিলে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ফলে পাক বাহিনীকে সবসময়ই হাইএলার্টে থাকতে হচ্ছে। আফগানিস্তান সীমান্তেও চাপে রয়েছে ইসলামাবাদ। এরমধ্যে গাজার সেনা পাঠালে দেশেই বাহিনীর ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা। সেইসঙ্গে গাজায় সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলে দেশেও  প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হবে মুনিরকে। এমনিতেই গাজার এই পরিস্থিতির জন্য ইজরায়েলের পাশাপাশি আমেরিকাকেও দায়ী করে পাকিস্তানের ইসলামিক সংগঠনগুলি। ফলে ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজায় সেনা পাঠালে দেশের মধ্যে তুমুল সরকার বিরোধী ক্ষোভ-বিক্ষোভ শুরু হতে পারে। আর তা সরকারের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা। 
 জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমেরিকা যাচ্ছেন মুনির। ছ’মাসের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর এটি তৃতীয় বৈঠক। সেখানে গাজার সেনা পাঠানো নিয়ে কথা হবে বলে খবর। তখনই সিদ্ধান্তের কথা জানাতে হবে পাক সেনাপ্রধানকে। সবদিক সামাল দিতে তিনি ঠিক কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ