


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গৃহযুদ্ধ পাকিস্তানজুড়ে। এতকাল প্রধান মাথাব্যথা ছিল বালুচিস্তান। অধিকৃত কাশ্মীরে বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (বিএলএফ) এবং বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) বছরের পর বছর ধরে বিদ্রোহী। স্বাধীন বালুচিস্তানের দাবিতে তারা আন্দোলন করে চলেছে। সম্প্রতি এই বালোচ বিদ্রোহ প্রতিহত করতে নিজেদের আর্মির উপর ভরসা হারিয়ে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের সাহায্য চেয়েছে পাকিস্তান সরকার। এমন বেনজির ঘটনায় স্তম্ভিত দুনিয়া। সেসবের মধ্যেই এবার বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। খাইবার পাখতুনওয়ার বহু এলাকা দখল করে নিয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। উত্তর ওয়াজিরিস্তানের সিংহভাগ এখন এই জঙ্গি সংগঠনের অধিকারে। নিজেদের চেকপোস্ট, ট্যাক্স আদায় কাউন্টার, অভাব অভিযোগ শোনার দপ্তর খুলে বসেছে তারা। স্বাধীন খাইবার পাখতুনওয়ার দাবিতেও সোচ্চার হয়েছে। এমনকী যে প্রদেশের উপর সবথেকে বেশি নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতা কায়েম করে রেখেছে পাক সরকার, সেই পাঞ্জাবেও বিদ্রোহের আগুন প্রবল আকার নিয়েছে। সব মিলিয়ে দিশাহারা পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির।
রবিবার থেকে আর্মি, পাকিস্তানি রেঞ্জারের সঙ্গে তেহরিক-ই-লাববাইক পাকিস্তান সংগঠনের প্রবল সংঘর্ষ শুরু হয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশে। এই সংগঠন ইজরায়েল বিরোধী ও প্যালেস্তাইনের সমর্থনে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। তারা ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রাওয়ালপিন্ডি দখলের ডাক দেওয়া হয়েছে। সোমবার লাহোরে একাধিক পুলিশ স্টেশনে হামলা করা হয়েছে। বিদ্রোহীদের উপর গুলি চালিয়েছে পাকিস্তান রেঞ্জার বাহিনী। বেশ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক এবং চার বিদ্রোহীর মৃত্যুর খবর স্বীকার করেছে প্রশাসন। যদিও বেসরকারিভাবে দাবি, মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি। গোটা লাহোর অগ্নিগর্ভ। এই পর্বেই পাকিস্তানকে চরম সঙ্কটে ফেলেছে আফগান সীমান্তে অঘোষিত যুদ্ধ। আফগান তালিবানের হামলায় ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে ইতিমধ্যে। ইসলামাবাদের দখলে থাকা অন্তত ১৪টি সীমান্ত আউটপোস্ট দখল করে নিয়েছে আফগান তালিবান। যদিও পাকিস্তানের পালটা দাবি, তারাই আফগানিস্তানে ঢুকে পড়ে ১০টি আফগান পোস্ট অধিকার করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার তড়িঘড়ি পশ্চিম সীমান্তে প্রহরা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আরও বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে রাজস্থান, পাঞ্জাব, গুজরাতে। কারণ, প্রতিবেশী দেশে গৃহযুদ্ধ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের ধারণা, পাকিস্তানের ভেঙে যাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। আর সেই আশঙ্কা বাস্তবায়িত হওয়ার লক্ষণ দেখা গেলে দলে দলে পাঞ্জাবের পাকিস্তানি নাগরিক ভারতের দিকে পালানোর চেষ্টা করবে। বর্তমানে ভারতে সফর করছেন তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী। সোমবার তাঁদের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক হয়েছে বিদেশ মন্ত্রকের। সেখানে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, পাকিস্তান ভেঙে তিন টুকরো হয়ে যেতে পারে অদূর ভবিষ্যতে। আফগান সরকারের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, পাকিস্তান আর সরকারের অধীনে নেই। বাংলাদেশ গঠনের ৫৫তম বছরে পাকিস্তান ফের ভাঙনের মুখে?