


নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ: যে কোনও মুহূর্তে পহেলগাঁও হামলার বদলা নেবে ভারত। আতঙ্কে ঘুম উড়েছে পাকিস্তানের। সোমবার স্বয়ং পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা মহম্মদ আসিফের গলায় শোনা গিয়েছিল সেই আশঙ্কা— যে কোনও মুহূর্তে প্রত্যাঘাত আসবে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তরফে। আর বুধবার আরও একধাপ এগিয়ে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারারের দাবি, ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সামরিক পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারত। এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য হাতে এসেছে ইসলামাবাদের। আতঙ্কিত পাক মন্ত্রীর সাফাই, পহেলগাঁও হামলা নিয়ে ‘ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ অভিযোগের ভিত্তিতে সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে নয়াদিল্লি।
ঘটনাচক্রে, একদিন আগেই দিল্লিতে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করে তিন সামরিক বাহিনীকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই পরিস্থিতিতে বিপদ আঁচ করছেন জেলবন্দি প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও। পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করলেও তাঁর অভিযোগ, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার মতোই পহেলগাঁও কাণ্ডও ভারতের ‘সাজানো নাটক’। উপযুক্ত তদন্ত না করেই মোদি সরকার ফের পাকিস্তানের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে। ভারত দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে কোনও পদক্ষেপ করলে তার যথাযোগ্য জবাব দেওয়ার ক্ষমতা পাকিস্তানের রয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি ইমরানের।
একদিন আগেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলাদাভাবে ফোনে কথা বলেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব গুতেইরেস। জঙ্গি হামলার নিন্দা করে তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে সওয়াল করেন। এবার সেই এক অবস্থান নিয়ে মাঠে নামল আমেরিকা ও ব্রিটেনও। মার্কিন বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘আমরা অনবরত পরিস্থিতির উপর নজর রেখে চলেছি। ভারত ও পাকিস্তান— দুই দেশের সরকারের সঙ্গেই যোগাযাগ রাখা হচ্ছে।’ আজকালের মধ্যেই দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন মার্কিন বিদেশ সচিব মারকো রুবিও। উত্তেজনা যাতে না বাড়ে, রুবিওর তরফে সেই বার্তাই এসেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি ও আলোচনার পক্ষে সওয়াল করেছে ব্রিটেনও। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমনসে বিষয়টি উত্থাপন করেন লেবার পার্টির শিখ এমপি গুরিন্দর সিং জোসান। উপ মহাদেশের এই উত্তেজনার প্রভাব যেভাবে ব্রিটেনের রাস্তাতেও চলে আসছে, তা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। ব্রিটেনের মাটিতে পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদ চলাকালীন এক পাক আধিকারিক গলা কেটে দেওয়ার অঙ্গভঙ্গি করেন এবং লন্ডনে পাকিস্তানের হাইকমিশনের জানালার কাচ ভাঙচুরের প্রসঙ্গও টানেন তিনি। একইসঙ্গে জানতে চান, হামলার চক্রীদের বিচারের কাজে ভারতকে সাহায্য করতে ব্রিটেনের অবস্থান কী? জবাবে ব্রিটিশ বিদেশমন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার বলেন, ‘আমরা চাই হামলার চক্রান্তকারীদের উপযুক্ত শাস্তি হোক। সেই কাজে আমরা ভারতের পাশে থাকব। তবে সেই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনেও আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি।’