


নয়াদিল্লি: সামনেই পহেলগাঁও হামলা ও অপারেশন সিন্দুরের বর্ষপূর্তি। তার আগে ভারত সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে পাকিস্তান। অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা ক্যাপ্টেন এসবি ত্যাগী বলেন, পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের হয়তো কোনো গোপন অভিসন্ধি রয়েছে। পাকিস্তানিরা স্বভাবসিদ্ধ একগুঁয়ে। যখনই তাদের পশ্চিম সীমান্ত (আফগান) শান্ত হবে, আবার পূর্ব সীমান্তে (ভারত) কলকাঠি নাড়া শুরু করবে। সৌদি আরব ও আমেরিকা চাইছে তাদের হয়ে ইরানে সেনা পাঠাক পাকিস্তান। এই অবস্থায় ভারত সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি করে সেই চাপ এড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন মুনির।
শুধু তাই নয়, পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যমেও শুরু হয়েছে ভুয়ো প্রচারের বন্যা। প্রায় সব রিপোর্টেই মোদ্দা অভিযোগ, ফের জঙ্গি হামলার ‘সাজানো ঘটনা’ ফেঁদে সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর তাল ঠুকছে ভারত। কূটনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতেই দিল্লির এই নয়া ছক। তবে এই ভুয়ো প্রচার সত্ত্বেও শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাচ্ছে না। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির সঙ্গে পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সখ্য ফের প্রকাশ্যে। ফৈজলাবাদে বিয়ের একটি অনুষ্ঠানে এক ফ্রেমে ধরা পড়লেন রানা সানাউল্লা ও তালহা সইদ। প্রথমজন হলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাজনৈতিক উপদেষ্টা। আর দ্বিতীয় ব্যক্তিটি লস্কর-ই-তোইবা প্রধান হাফিজ সইদের পুত্র। বিয়ের ওই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত এই দুজনকে হাসিমুখে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করতে দেখা যাচ্ছে। সেই ছবি ভাইরাল। মুম্বই হামলার মাথা হাফিজ সইদ ও তার পুত্র তালহা— দুজনেই ভারতের নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে। এই ছবি ফের প্রমাণ করছে, পাকিস্তানে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের ছত্রছায়ায় জঙ্গিদের অবাধ বিচরণ অব্যাহত।
গত বছর ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছিলেন পর্যটকরা। প্রত্যাঘাত হিসাবে ৭ মে অপারেশন সিন্দুর শুরু করেছিল ভারত। ওই জোড়া ঘটনার বর্ষপূর্তির আগে পাকিস্তানের ‘ডন’ সংবাদপত্রের একটি রিপোর্টে ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক’ একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, আটক পাকিস্তানি নাগরিকদের ব্যবহার করে ভারত ফের কোনো ‘সাজানো ঘটনা’ ঘটতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি হতে পারে। সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতে ও ‘কূটনৈতিক ব্যর্থতা’ ঢাকতে ভারত এই কৌশল নিতে পারে। যদিও দিল্লির তরফে এধরনের রিপোর্টের সত্যতা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।