


আমেদাবাদ: মর্গ। ২৭০টি দেহ। অপেক্ষার দীর্ঘ লাইন। এটাই আমেদাবাদের তিনদিনের ছবি। চোখের কোলে শুকিয়ে যাওয়া জলের দাগ, আর হাহাকার পোড়া গন্ধের সঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছে। নাম ধরে কি ডাকল কেউ? ওই নাম... যা এই শেষবার ডাকা হবে। মৃতের তালিকা ধরে। রবিবার ডাক এসেছে বিজয় রূপানির। গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্ঘটনার পরই ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য নমুনা দিয়েছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এদিন তার রিপোর্ট এসেছে। রূপানির পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এই খবর দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল। চার্টার্ড বিমানে করে রূপানির দেহ আমেদাবাদ থেকে রাজকোট নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার ফল জেনেছেন আরও ৪৬ জন। রাত পর্যন্ত সংখ্যাটা ৪৭’এই দাঁড়িয়ে। আর মরদেহ হাতে পেয়েছেন? ২৪ জন।
প্রথমে ১৯ মে লন্ডন যাওয়ার কথা ছিল গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। তবে শেষ মুহূর্তে টিকিট বাতিল করতে হয়। রূপানি ঠিক করেন, স্ত্রী-মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে ৫ জুন রওনা দেবেন। পরে সেই যাত্রাও বাতিল হয়ে যায়। অবশেষে ১২ জুন এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনারে যাত্রা শুরু করেন রূপানি। সেটাই কাল হল। টেক অফেই বিপর্যয়। অভিশপ্ত এআই ১৭১ বিমান দুর্ঘটনায় সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ২৭৪। বিস্ফোরণে সিংহভাগ দেহই পুড়ে দলা পাকিয়ে গিয়েছে। তাই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলছে ডিএনএ প্রোফাইলিং। বয়ে চলা প্রত্যেক ঘণ্টার সঙ্গে বাড়ছে মর্গের বাইরে হাহাকার। বি জে মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ ধবল গামেতি বলেন, ‘দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ২৭০টি দেহ সিভিল হাসপাতালে আনা হয়েছিল।’ অ্যাডিশনাল সিভিল সুপার ডাঃ রজনীশ প্যাটেলের কথায়, ‘এখন পর্যন্ত ৪৭টি দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে। মৃতরা উদয়পুর, ভদোদরা, খেড়া, মেহসানা, আরাবল্লি, আমেদাবাদ ও সৌরাষ্ট্রের বোটাদের বাসিন্দা।’ মৃতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ২৩০টি টিম গঠন করা হয়েছে। আজ, সোমবার বৈঠকে বসবে আইবি কর্তাকে নিয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটিও। স্টেট ইমার্জেন্সি কমিশনার অলোক পান্ডের কথায়, ‘বিমার প্রক্রিয়া নিয়ে সাহায্যের জন্য ২২টি টিম তৈরি হয়েছে। কাল বা পরশুর মধ্যে বিদেশি নাগরিকদের পরিবার আমেদাবাদে চলে আসবেন।’ এলআইসি’র পক্ষ থেকেও ক্লেইম সেটল করার প্রক্রিয়া শিথিল করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, শুধু মৃত্যু শংসাপত্র নয়, সরকারি যে কোনও নথিতেই যদি পলিসি হোল্ডারের মৃত্যুর প্রমাণ পরিজনরা দিতে পারেন, তাহলে বিমান দুর্ঘটনায় মৃতদের ক্লেইম দ্রুত সেটল করা হবে। ক্ষতিপূরণ বা বিমার টাকা... মর্গের বাইরে এখন হাহাকার শুধু একটাই—মানুষটা তো আর ফিরবে না! শক্ত হাতগুলো ধরে আছে পরিচয়পত্র। নথি। প্রমাণ। ডাক পড়লেই যে সব নিয়ে ছুটে যেতে হবে। তারপর প্রিয়জনের কফিনবন্দি দেহ নিয়ে বাড়ির পথে যাত্রা। শেষবারের মতো।