Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

ঝাড়গ্রামে ‘পহেলগাঁও’

ঝাড়গ্রামের কপাটকাটার ঝিল। যাকে স্থানীয়রা জম্মু ও কাশ্মীরের ‘পহেলগাঁও’ উপত্যকা নামেও ডাকেন। লোকচক্ষুর আড়ালে তার অবস্থান

ঝাড়গ্রামে ‘পহেলগাঁও’
  • ১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঝাড়গ্রামের কপাটকাটার ঝিল। যাকে স্থানীয়রা জম্মু ও কাশ্মীরের ‘পহেলগাঁও’ উপত্যকা নামেও ডাকেন। লোকচক্ষুর আড়ালে তার অবস্থান। জামবনীর জঙ্গলের একেবারে ভিতরে। স্বচ্ছ জলের বিশাল ঝিল। ঝিরিঝিরি হাওয়ায় ভেসে আসে জলের স্রোতের শব্দ। বর্ষা এলেই উড়ে আসে পরিযায়ী বালিহাঁসের দল। জ্যোৎস্না রাতে জল খেতে আসে হাতির পাল। ভাগ্য ভালো থাকলে দেখা মিলতে পারে নীলকণ্ঠ পাখি, হরিণ, বনবিড়াল থেকে হায়নার দলের। বাইরের জগতের সঙ্গে কার্যত পরিচয়ই নেই এই ঝিল উপত্যকাপ। আজ ধীরে ধীরে হলেও তার পরিচিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Advertisement

দহিজুড়ি থেকে পরিহাটি যাওয়ার পথে বুড়িশোলের জঙ্গল। ডানদিকে মোরামের পথ ধরে এগলেই কপাটকাটার সবুজ উপত্যকার দেখা মিলবে। এক মাইলের বেশি এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে উপত্যকাটি। পশ্চিমে ঘন শাল বনের গভীর জঙ্গল। উত্তরে মালাবতীর বনভূমি। বুড়িশোল বা কুশাবনির জঙ্গল পার হলেই ঝিল উপত্যকার সৌন্দর্য চোখে পড়বে। ভোরের আলোয় ঝিলের জলের রং লাল হয়ে ওঠে। দিনে সূর্যের রোদে জলের রং রুপোলি রূপ ধারণ করে। ঝিলে ছোট ছোট মাছেরা মনের আনন্দে খেলা করে। গাছে গাছে ডানা মেলে উড়ে বেড়ায় নীলকন্ঠ পাখিরা। উপত্যকার চারপাশে ছোট ছোট গ্ৰাম। জঙ্গল ও ছবির মতো সুন্দর এই উপত্যকাকে কেন্দ্র করেই কাটে স্থানীয় মানুষের জীবন। এক দশক আগে জঙ্গলঘেরা উপত্যকায় বনপার্টির দল সশস্ত্র ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল। তারপর কপাটকাটা বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেসব এখন অতীত। ধীরে ধীরে গোটা এলাকায় শান্তি ফিরে এসেছে। বাসিন্দারাও জানিয়েছে, এখন আর ভয়ের পরিবেশ আর নেই। চাইলে আপনি ঘুরে আসতে পারেন ঝাড়গ্রামের ‘পহেলগাঁও’। স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জিৎ মাহাতর কথায়, বাইরের মানুষজনের আনাগোনা ধীরে ধীরে বাড়ছে। পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচয় পেলে এখানে ভিড় বাড়বে। সঙ্গে আয়ের সুযোগ বাড়বে স্থানীয়দের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ