সংবাদদাতা, লালবাগ: চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের পর থেকে পদ্মায় ধারাবাহিকভাবে জলস্তর বৃদ্ধি লালগোলার তারানগরবাসীর বুকে কাঁপুনি ধরাতে শুরু করেছিল। গত মঙ্গলবার থেকে পদ্মাপাড়ে মৃদু ভাঙন শুরু হওয়ায় ঘুম উবেছে তারানগরের কয়েকশো পরিবারের। পদ্মার গতি প্রকৃতির উপর নজর রাখতে এখন থেকেই গ্রামবাসীদের একাংশ রাত জাগছে। গ্রামবাসীরা বলেন, গত বছর আগস্টের শুরু থেকে অল্প অল্প করে নদীপাড়ের মাটি ভাঙছিল। বড়ো এলাকা নিয়ে ভাঙন না হওয়ায় সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আর তাতেই রাক্ষুসে পদ্মার গ্রাসে কপাল পুড়েছে শতাধিক পরিবারের। গত বছরের ১৫ আগস্ট রাতে উন্মত্ত পদ্মার মাত্র দু’ঘণ্টার তাণ্ডবে একাধিক বাড়ি, চাষের জমি, আম-লিচু বাগান নদী গর্ভে তলিয়ে যায়। সেই কারণে এখন থেকেই আগাম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গত বছর বিপর্যয়ের পর তারানগরে ভাঙন রোধের কাজ নিয়েও ওখানকার বাসিন্দারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তের জেরে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে হাওয়া অফিস জানিয়েছে। ঘূর্ণাবর্তের জেরে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশে। ওই সমস্ত রাজ্যে বৃষ্টি হলে পদ্মা নদীর জলস্তর আরও বাড়তে পারে বলে সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় লালগোলার ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলিতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তারানগর, রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার পর্যন্ত পদ্মা নদীর জলস্তর ছিল ১৯.২৬ মিটার। পদ্মা নদীর বিপদসীমা ২১.৯০ মিটার। বিপদসীমার ২.৬৪ মিটার নিচে রয়েছে জল। সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, মঙ্গল ও বুধবার জলস্তর নতুন করে বৃদ্ধি পায়নি। গঙ্গা-পদ্মার আপ স্ট্রিমে ভারী বৃষ্টিপাত হলে আগামী সপ্তাহে নদীর জলস্তর আরও বৃদ্ধির একটা সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। ভাঙন প্রবণ এলাকাগুলিতেও নজর রাখা হচ্ছে। গত দু’বছরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে তারানগর ও রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এ বছর জল বাড়তে শুরু করতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে নদীপাড়ে। সম্প্রতি প্রায় ৭কোটি ৫২ লক্ষ টাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শেষ হয়েছে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি জায়গায় মাটি ধসে পড়া ও বস্তা থেকে মাটি গলে যাওয়ার পাশাপাশি নদীপাড়ের মাটিতে ফাটল ধরেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ জাকারিয়া বলেন, তারানগরে নদী পাড়ের দুই এক জায়গা থেকে অল্প অল্প করে মাটি ধসছে। জলস্তর বাড়লে ভাঙন চওড়া হবে। এবার পদ্মা কত পরিবারের মাথার উপর ছাদ কেড়ে নেবে কে জানে?



