নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘অর্ণব’-এর দিকে তাকিয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের ধান চাষিরা। জলের অভাবে অনেক জমি শুকিয়ে যেতে বসেছে। গাছের বৃদ্ধি সেভাবে হচ্ছে না। শিস আসার সময় জমিতে জলের টান পড়লে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেকারণে চাষিরা অর্ণব-এর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টি হলে ধানের ফলন ভাল হবে। সব জায়গায় সেচের ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টির উপর ভরসা করে আউশগ্রামের মতো দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ধান চাষ হয় বলে কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। চাষিরা বলছেন, জলের সমস্যা মিটলে ধানের রেকর্ড ফলন হবে। এবার পোকার আক্রমণ সেভাবে দেখা যায়নি। পূর্ব বর্ধমান বা বীরভূমের কিছু জমিতে ধানের পাতা লাল হচ্ছে। তাছাড়া বেশিরভাগ জমির ধানগাছ সতেজ রয়েছে। আউশগ্রামের চাষি সুমন শেখ বলেন, নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টি হলে ধান গাছের ক্ষতি হবে না। এখন শিস আসছে। বৃষ্টি হলে তা ভালভাবে পুষ্ট হবে। সাবমার্সিবল চালিয়ে অনেক জমিতে জল দিতে হয়েছে। তাতে খরচ বাড়ছে। তাছাড়া সব জায়গায় সাবমার্সিবল নেই। ডিভিসির জল পৌঁছায় না। ওইসমস্ত এলাকাগুলিতে শুধু বর্ষার সময়ই ধান চাষ করা যায়।
কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এবছর পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার মতো জেলাগুলিতে ভাল ধান চাষ হয়েছে। অধিকাংশ জমিতে ধান রোপণ হয়েছে। এইসময় বৃষ্টি হলে তা চাষিদের কাছে আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। তবে ঝড় হলে ক্ষতি হয়ে যাবে। ধান গাছ পড়ে যাবে। তারফলে ফলন কমে যাবে।
গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, চাষিদের আশঙ্কার কারণ নেই। এবার রেকর্ড পরিমাণ ধানের ফলন হবে। সরকার চাষিদের সব ধান কিনে নেবে। ফড়েদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে। প্রতিটি ক্রয়কেন্দ্রে নজরদারি থাকবে। এবার সমস্ত চাষির বিমা করানো হয়েছে। কোনো কারণে ধানের ক্ষতি হলে চাষিরা বিমার টাকা পাবেন।
কৃষিদপ্তর জানিয়েছে, অর্ণবের জেরে এই জেলায় ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা কম। তবে বৃষ্টি হতে পারে। সেই আশাতেই রয়েছেন অনেকে। চাষিরা বলছেন, বৃষ্টির আশায় অনেকেই সাবমার্সিবল থেকে জল তোলা বন্ধ রেখেছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূমের চাষিরা বৃষ্টির প্রার্থনা করছেন। এবছর পুজোর আগেও বৃষ্টি না হওয়ায় বহু ধানজমি শুকিয়ে যেতে বসেছে। এখন অর্ণবই ভরসা।



