Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পড়ুয়া ভর্তি করাতে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন দাসদিঘি জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষকরা

পড়ুয়া ভর্তি করাতে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন দাসদিঘি জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষকরা
  • ২৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পড়ুয়ার অভাবে ধুঁকছে জয়পুরের দাসদিঘি জুনিয়র হাইস্কুল। স্কুল বাঁচাতে অভিভাবকদের অনুনয় বিনয় করছেন শিক্ষকরা। গত এক বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে মাত্র ছ’জন পড়ুয়া ছিল। শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। এমন পরিস্থিতিতে ওই স্কুলকে পার্শ্ববর্তী কোনও স্কুলের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে একপ্রস্থ আলোচনাও হয়। এরপরেই শিক্ষকরা স্কুল বাঁচাতে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন। অভিভাবকদের অনুনয় বিনয় করছেন। তাতে কিছুটা কাজও হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ে ন’জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছে। আগের বছরের ছ’জন ছাত্রের মধ্যে এবার একজন নবম শ্রেণিতে উঠে অন্য স্কুলে চলে গিয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪জনে। এই পরিস্থিতিতে স্কুল বাঁচাতে চেষ্টার ত্রুটি রাখছেন না শিক্ষকরা। 
Advertisement
এপ্রসঙ্গে জয়পুরের এআই সুমিতা বেসরা সোরেন বলেন, দাসদিঘি জুনিয়র হাইস্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা নিতান্তই কম। গোটা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিক্ষকরাও চেষ্টা করছেন পড়ুয়া বাড়াতে। এখনও ভর্তির সময় রয়েছে। তারপর পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।  দাসদিঘি জুনিয়র হাইস্কুলের টিচার্জ ইনচার্জ সূর্যপ্রতিম চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা চেষ্টা করছি স্কুলটিকে বাঁচানোর। অভিভাবকদের বোঝানো হচ্ছে। বিদ্যালয় ও শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১সালে দাসদিঘি জুনিয়র হাইস্কুল চালু হয়। ওই সময়ে দেড়শোর বেশি ছাত্রছাত্রী ছিল। দাসদিঘি ছাড়াও শুকজোড়া প্রাইমারি স্কুল এবং স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা ওই বিদ্যালয়ে ভর্তি হতো। কিন্তু পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে থাকে। দূরত্ব বেশি হলেও মাধ্যমিক অথবা উচ্চমাধ্যমিক রয়েছে এমন স্কুলে অভিভাবকরা ভর্তি করছেন। তা ঠেকাতে বিদ্যালয়কে মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করার জন্য শিক্ষাদপ্তরে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ছাত্রছাত্রী না থাকায় সেই অনুমোদন মেলেনি। ধীরে ধীরে পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে কমতে ২০২৪ সালে মাত্র ছ’জনে দাঁড়ায়। এরপরেই বিদ্যালয়টি পার্শ্ববর্তী কোনও বিদ্যালয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা হয়। সম্প্রতি এনিয়ে জেলা প্রশাসনের বৈঠকেও আলোচনা হয়। এমন সময় বিদ্যালয় বাঁচাতে শিক্ষকরা উঠেপড়ে লাগেন। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের কাছে অনুনয় বিনয় করে চলতি শিক্ষাবর্ষে এখনও পর্যন্ত মাত্র ন’জন পড়ুয়াকে ভর্তি করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু ওই ছাত্র নিয়ে কি একটি হাইস্কুল চলতে পারে? এমন প্রশ্ন নিয়েই স্কুলটি চলছে। শিক্ষাদপ্তরও আরও কিছুদিন অপেক্ষা করছে। তারপরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।  
বিদ্যালয়ের সহশিক্ষকরা বলেন, আমাদের বিদ্যালয় থেকে পাশ করে বর্তমানে অনেক ছাত্রছাত্রী সরকারি ও বেসরকারি উচ্চপদে কর্মরত রয়েছে। কিন্তু ধীরে ধীরে পড়ুয়ার সংখ্যা কমে গিয়েছে। পার্শ্ববর্তী দু’-তিনটি প্রাইমারি স্কুল থেকে পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দূরবর্তী অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। অভিভাবকদের একাংশ বলেন, দু’ থেকে তিন কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে তিন-চারটি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বারবার বিদ্যালয় পরিবর্তন করতে চান না বলে সন্তানদের দাসদিঘি জুনিয়র হাইস্কুলে ভর্তি না করে ওইসব বিদ্যালয়ে ভর্তি করছেন। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ