সংবাদদাতা, বোলপুর: পুরসভার অনুমোদন ছাড়াই অস্বাভাবিক ভাড়ার রেট চার্ট প্রকাশ করেছে বোলপুরের টোটোচালকদের একাংশ। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অনেকে। আশ্চর্যের বিষয়, পুরসভার বিনা অনুমতিতে তা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই শহরে শোরগোল শুরু হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন অনেকে। যদিও টোটো চালকদের একাংশের দাবি, ওই তালিকা সকল স্ট্যান্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অতিলোভী কিছু চালকের জন্য অধিকাংশের দুর্নাম হচ্ছে। বিষয়টিতে তদন্ত ও হস্তক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
শান্তিনিকেতন আশ্রম থেকে সোনাঝুরি হাটের দূরত্ব মেরেকেটে দেড় থেকে দুই কিলোমিটার। সরকারি হিসেবে জনপ্রতি ভাড়া নেওয়ার কথা ২০-৩০টাকা। অর্থাৎ পাঁচজনের ভাড়া ১০০-১৫০টাকা। কিন্তু বিচিত্র সেই ভাড়ার চার্টে ভাড়া লেখা হয়েছে ৪০০-৪৫০টাকা। অর্থাৎ প্রায় চারগুণ বেশি। শান্তিনিকেতন থেকে কঙ্কালীতলার দূরত্ব কমবেশি আট কিলোমিটার। সে ক্ষেত্রেও একই ভাড়া। শান্তিনিকেতনের আশপাশের জায়গা ঘোরার ক্ষেত্রেও ৭০০-৮০০টাকা গুনতে হবে। যা প্রতি ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।
শান্তিনিকেতনের টোটো চালকদের একাংশের বিরুদ্ধে বেশি ভাড়া চাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এই অস্বাভাবিক ভাড়ার তালিকাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে ‘প্রকাশ্যে ডাকাতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। টোটোর সেই রেট চার্টের তালিকার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে এক ব্যক্তি ব্যঙ্গ করে লিখেছেন ‘এত ভাড়া! ভাবছি শান্তিনিকেতনে গিয়ে এবার টোটো চালাব।’ সেই পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে অধিকাংশই টোটো চালকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। শৈলেশ পাল নামে এক ব্যক্তি লেখেন, ‘আমরা বোলপুরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছি। বোলপুরই একমাত্র শহর যেখানে টোটো ভাড়ার কোনও নির্দিষ্ট রেট নেই। যার কাছে যেরকম পারে লুটে নেয়। সবাই খারাপ বলব না। তবে বেশিরভাগই এরকম।’ এক ব্যক্তি ঠাট্টা করে লিখেছেন, ‘কারও বোলপুর বাড়ি থাকলে ভাড়া দেবেন? আমি ওখানে গিয়ে টোটো চালাব। কাজের যা অবস্থা, ওখানে গিয়ে টোটো চালালে খেয়েপরে বাঁচব।’
শান্তিনিকেতনে ঘুরতে এসে পর্যটকদের অনেকেই টোটো চালকদের এই কার্যকলাপে অত্যন্ত বিরক্ত। তাদের দাবি, অভিযোগ জানানোর কোনও জায়গা নেই। চালকদের একাংশ জুলুমবাজি চালাচ্ছে। বোলপুর পুরসভার কোনও নির্দিষ্ট রেটচার্ট নেই। পুরসভার এই অনীহার কারণে যে যেখানে যেমন ইচ্ছে ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকী, গতবছর দুর্গাপুজোর সময় টোটো রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার কথা ঘোষণা করেছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয়নি বলে টোটো চালকদের দাবি। বর্তমানে বোলপুর শহরে প্রায় ৮-১০ হাজার টোটো রয়েছে। সেখানে মাত্র দেড় হাজার জনের রেজিস্ট্রেশন হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে পুরসভার এই গাফিলতির সুযোগে টোটোচালকদের একাংশ নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছেন। তাতে ঘুরতে এসে পর্যটকরা প্রায়শই হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। এতে বোলপুর শান্তিনিকেতনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে অভিযোগ। এব্যাপারে চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না, খোঁজ নিয়ে দেখছি।