নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘দাদা, ছুরিটা হাত থেকে ফেলুন’। রক্তমাখা ছুরি নিয়ে রাস্তায় হাঁটছেন এক ব্যক্তি। পিছনে এক পুলিসকর্মী, নিরস্ত্র করার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। হাতে ছুরি দেখে পথচারীরাও আতঙ্কিত। অনেকে মোবাইলে ক্যামেরাবন্দিও করছেন। কিছুক্ষণ পরই পুলিস অবশ্য পাকড়াও করে ওই ব্যক্তিকে। তারপরই সামনে আসে তাণ্ডবের কাহিনি। অত্যাধিক ছুটির জেরে বেতনে কোপ পড়েছিল ওই সরকারি কর্মীর। সেই রাগেই সরকারি অফিসের ভিতর আধিকারিক সহ চারজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছেন তিনি। তাতে রক্তাক্ত হয়েছেন ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার এক আধিকারিক সহ চারজন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এমনই বেনজির ঘটনার সাক্ষী থাকল নিউটাউনের কারিগরি ভবন। পুলিস অবশ্য অভিযুক্ত সরকারি কর্মীকে গ্রেপ্তারও করেছে।
Advertisement
পুলিস ও দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সরকারি কর্মীর নাম অমিত সরকার। তাঁর বাড়ি ঘোলা থানা এলাকায়। বছর ৫০ বয়স। তিনি দীর্ঘদিন নবান্নে পূর্তদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, তিনি নিয়মিত অফিস যেতেন না। যখন খুশি ছুটি নিতেন। তাঁর প্রাপ্য ছুটি শেষ হয়ে গিয়েছিল। শেষে তাঁকে বিনা বেতনে চাকরি করতে হচ্ছিল। প্রায় চারমাস আগে নবান্ন থেকে তাঁকে বদলি করে পাঠানো হয় কারিগরি শিক্ষা দপ্তরে। ‘উইদাউট পে’ হন তিনি। কিন্তু, অমিতবাবু মাইনে চাইছিলেন। উইদাউট পে’তে কাজ করার সময়ও তিনি লাগাতার অফিস কামাই করতেন। তাঁর বেতন সংক্রান্ত ফাইল যিনি দেখভাল করতেন, তাঁর বাড়ি হুগলির কোন্নগরে। অভিযোগ, গত সোমবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে অমিত সরকার তাঁকে মারধর করেছিল। ঘুসি মেরে দাঁত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁর। এদিন অফিসে এসেই অভিযুক্ত অমিত সরকার সিনিয়র অফিসারদের গালিগালাজ করতে থাকেন। তখন সহকর্মীরা তাঁকে শান্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। থামার বদলে তিনি ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে তিন সহকর্মীর দিকে তেড়ে যান। তাঁদের কোপ মারেন। চিৎকার শুনে ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার এক অফিসার ঘটনাস্থলে এলে, তাঁকেও ছুরির কোপ মারা হয়। তারপরই অমিত সরকার ছুরি হাতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। একটি ট্যাক্সি থামিয়ে সে লিফ্ট চেয়েছিল। কিন্তু, ট্যাক্সিচালক তাঁকে লিফ্ট না দেওয়ায় তাঁকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ।



