Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অতিরিক্ত চাপে অসুস্থ কর্মী, প্রতিবাদে কর্মবিরতি জেলা পরিষদের অফিসে

অতিরিক্ত চাপে অসুস্থ কর্মী, প্রতিবাদে কর্মবিরতি জেলা পরিষদের অফিসে
  • ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কাজের অতিরিক্ত চাপ মানসিক সমস্যার পাশাপাশি শারীরিক সমস্যা তৈরি করছে। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের কর্মীদের মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এই অবস্থায় শুক্রবার জেলা পরিষদের কর্মীরা কর্মবিরতির ডাক দেন। তাঁদের দাবি, বার বার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কাজের চাপ কমছে না। কর্মীরা ভালো কাজ করলেও কাজের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে শেষের দিকে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ। প্রত্যেক কর্মচারীর মধ্যে এটাই একটা বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এরই প্রতিবাদে জেলা পরিষদের প্রায় দেড়শ কর্মী এদিন কর্মবিরতি পালন করেন। কাজ না হওয়ায় সাধারণ মানুষ ফিরে গিয়েছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপর কর্মবিরতি তুলে নেন কর্মীরা। 
Advertisement
জানা গিয়েছে, জেলা পরিষদে গ্রুপ ডি ও গ্রুপ সি মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। বাকি কর্মীদের উপর যাবতীয় চাপ পড়ছে। দিনের পর দিন মুখ বুজে কাজ করে যাচ্ছেন কর্মীরা। তারপরেও রাজ্যে সমস্ত জেলার মধ্যে কাজের নিরিখে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। এই নিয়ে কয়েকদিন আগে জেলা পরিষদের এক আধিকারিক কর্মীদের সঙ্গে বাজেভাবে কিছু কথা বলেন। সেই চাপ সহ্য না করতে পেরে একজন কর্মী গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বাকি কর্মীরা সেই অসুস্থকর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা সকলেই অতিরিক্ত জেলাশাসককে একটি ডেপুটেশন জমা দেন। তারপর এদিন সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করেন তাঁরা। দুপুর পর্যন্ত চলে কর্মবিরতি। তারপর বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক বৈঠকে বসেন। জেলা পরিষদের সেমিনার হলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে বৈঠক। সেখানে কর্মীদের অসুবিধার কথা শোনেন তিনি। 
যদিও বৈঠক শেষে জেলা পরিষদের এক কর্মী বলেন, সব মিলিয়ে জেলা পরিষদে ৪০ জনের বেশি কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। তাদের কাজের চাপ সম্পূর্ণ আমাদের সামলাতে হয়। তারপরে বেশকিছু আধিকারিক অত্যন্ত বাজে ব্যবহার করেন। আমাদেরই এক সহকর্মী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। আমরা চাই প্রশাসনের আধিকারিকরাই কর্মী নিয়োগ করুন এবং আমাদের চাপের কথা একটু গুরুত্ব সহকারে ভাবুন। অতিরিক্ত জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠকের পর আমরা কর্মবিরতি তুলে নিলাম। 
অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) শামসুর রহমান বলেন, কোনও কর্মবিরতি হয়নি। কর্মীরা যে দাবি জানিয়েছেন, সেগুলি শোনা হয়েছে। সমস্যা মিটে গিয়েছে। যদিও এদিন কর্মবিরতির সময় জেলা পরিষদে হাজির ছিলেন না জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা। তিনি ফোনে বলেন, কর্মীদের সমস্যার কথা আমরা শুনেছি। জেলা পরিষদ একটি পরিবারের মতো, এখানে কোনও কর্মীর সমস্যা হলে, আমরা সকলেই তাঁদের পাশে দাঁড়াই। আমাদেরই একজন সহকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁর পরিবারের পাশে আমরা সকলেই আছি। কর্মীরা নিজেদের দাবি দাওয়া পেশের জন্য একটি প্রতীকি কর্মবিরতি করেছিলেন। তা জেলা প্রশাসনের অধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তুলেও নিয়েছেন।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ