নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে বসে পাক আইএসআই কর্তাদের সিমের ওটিপি বিক্রির অভিযোগ সামনে এল। ভারতের সিম দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে এখানকার চরদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন পাক গুপ্তচর সংস্থার অফিসাররা। একদিকে ওটিপি বিক্রি অন্যদিকে তথ্য পাচারের অভিযোগে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার ক্ষীরাই গ্রাম থেকে মুরসালিন ও গৌতম খাঁড়া নামে দুজনকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করল বেঙ্গল এসটিএফ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক সিমকার্ড। অভিযুক্ত মুরসালিন থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় গিয়েও আইএসআই কর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছিল।
বেঙ্গল এসটিএফ অফিসারদের কাছে খবর আসে, পিংলার একটি দোকান থেকে ভুয়ো নথি জমা করে প্রচুর সিম তোলা হচ্ছে। সেগুলি কারা কিনছে তাই নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়। যে মোবাইল কোম্পানির সিম তোলা হয়েছিল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, এগুলি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ খোলা হয়েছে। পিংলার যে সিম বিক্রেতার কাছ থেকে এই সিম কেনা হচ্ছিল সেখানে যান তদন্তকারীরা। তার স্টক পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, মাসে কয়েকহাজার সিম বিক্রি হচ্ছে। গৌতম খাঁড়া সম্পর্কে ওই দোকানদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এই সিম কিনছে সেখানকার বাসিন্দা মুরসালিন। একটি একটি সিম কেনা হচ্ছে পাঁচ থেকে ছশো টাকা দিয়ে। এরপরই মুরসালিনকে ধরা হয় গ্রাম থেকে। তাকে জেরা করতেই জানা যায়, ভারতীয় সিম দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ খুলছেন পাক আইএসআইয়ের কর্তারা। সে ওটিপি সরবরাহ করছে। এক একটি ওটিপি বেচে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা রোজগার হচ্ছে। তারপরই এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। মুরসালিনকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তার সঙ্গে পাক আইএসআই অফিসারের পরিচয় হয়। ভারতীয় সিমের ওটিপির বিনিময়ে মোটা টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয় তাকে। এই টোপ গিলে সে সিম কিনে ওটিপি সরবরাহ শুরু করে। পরে তার সঙ্গে পাক গুপ্তচর সংস্থার অন্য অফিসারদের সঙ্গে পরিচয় হয়। ভারতীয় সিম দিয়ে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের মধ্যেমে আইএসআই কর্তরা এখানকার চরদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। অভিযুক্ত মুরসালিন চরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। তার মাধ্যমে কোনো চর নিয়োগ হয়েছে কি না এবং এখানে কতজন আইএসআই কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, জানার চেষ্টা করছে এসটিএফ।