Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ওষুধ খেয়ে অচৈতন্য বালকই হয়ে উঠল ফাইলেরিয়া দূরীকরণের পোস্টার বয়

ওষুধ খেয়ে অচৈতন্য বালকই হয়ে উঠল ফাইলেরিয়া দূরীকরণের পোস্টার বয়
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব  প্রতিনিধি, আসানসোল: গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসেই বারাবনি ব্লকের মাজিয়াড়া গ্রামে স্কুল থেকে খাওয়ানো হয় ফাইলেরিয়ার ওষুধ। ওষুধ খাওয়ার দিনই বিকেলে মাঠে খেলতে গিয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়ে প্রথম শ্রেণির এক পড়ুয়া। নিমেষে শোরগোল পড়ে যায়। ফাইলেরিয়ার ওষুধের জন্যই এই দশা বলে আঙুল তোলা হয় স্বাস্থ্যদপ্তরের দিকে। দ্রুত তাকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে আনা হয়। স্বাস্থ্যদপ্তরের শীর্ষকর্তারা হাজির হন হাসপাতালে। দীর্ঘ পরীক্ষা নিরিক্ষার পর জানা যায়, শিশুটি নিউরোসিস্টিক সারকোসিসে আক্রান্ত। তার ব্রেনে টিউমার তৈরি করে বাসা বেঁধেছে কৃমি। একমাস ধরে স্বাস্থ্যদপ্তরের শীর্ষকর্তাদের নজরদারিতে হাসপাতালে চিকিৎসা করে অবশেষে সুস্থ হয় শিশুটি। স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, ওষুধটি খাওয়ার ফলে ব্রেনে থাকা কৃমি মরতে শুরু করে। তার ফলেই শিশুটি অচৈতন্য হয়ে পড়ে। রোগ ধরা না পড়লে হঠাৎই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ত শিশুটি। 
Advertisement
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই শুরু হতে চলেছে মাস ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমডিএ) প্রোগাম। ফাইলেরিয়ার ওষুধ খাওয়ার ‘সাকসেস স্টোরি’ হিসেবে এই ঘটনাকেই তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। যে ঘটনা রাতের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিল স্বাস্থ্যকর্তাদের, সেই ঘটনাই আজ সরকারি ডি ওয়ার্মিং কর্মসূচির সাফ঩ল্যের খতিয়ান। ফাইলেরিয়া দূরীকরণের বড় হাতিয়ারও। যে সব জায়গায় ওষুধ খাওয়া নিয়ে এখনও সংশয়ে কুসংস্থারে আচ্ছন্ন মানুষ, সেখানেই এই সাফল্যের কাহিনি তুলে ধরা হবে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল, কুলটি ও বারাবনিতে ফাইলেরিয়া সংক্রমণের হার বেশি। এই তিন জায়গাতেই ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওষুধ খাওয়ানো শুরু হচ্ছে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও ওষুধ খাওয়ানো হবে। চলতি বছরে এলাকার প্রতিটি সদস্যকে এই ওষুধ খাইয়ে ফাইলেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে চায় স্বাস্থ্যদপ্তর।
জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস বলেন, জেলার বেশ কিছু এলাকায় ফাইলেরিয়ার ওষুধ খাওয়া নিয়ে নানা কুসংস্থার, ভ্রান্ত ধারণা আছে। বারাবনির পড়ুয়ার কাহিনি আমরা সেই সব এলাকায় তুলে ধরব। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছে সরকারি ভাবে দেওয়া ফাইলেরিয়ার ওষুধ। এই সাফ঩ল্যের কাহিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাতেও পাঠানো হয়েছে। 
খনি অঞ্চল ঘেরা পশ্চিম বর্ধমান জেলার বেশ কিছু অংশ এখনও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। বিভিন্ন জায়গায় যেমন ডাইনি অপবাদ দেওয়ার ঘটনা ঘটে, তেমনি ফাইলেরিয়ার ওষুধ খাওয়া নিয়েও নানা ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। এর জেরেই আসানসোল, কুলটি ও বারাবনিতে ফাইলেরিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। যা স্বাস্থ্যদপ্তরের মাথাব্যথার কারণ। গত বছরও কুসংস্থার, ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে ফাইলেরিয়া দূরীকরণ অভিযানে জোর দিয়েছিল স্বাস্থ্যদপ্তর। তখনই ফাইলেরিয়া ওষুধ খেয়ে শিশুর অচৈতন্য হয়ে পড়ার খবর কুসংস্কারের আগুনে ঘি ঢালে। স্বাস্থ্যকর্তারা জানতেন, শিশুটির মৃত্যু হলে এই এলাকায় আর ফাইলেরিয়া দূরীকরণ কর্মসূচি করা যাবে না। তাই শিশুটিকে সুস্থ করতে প্রাণপাত করেন চিকিৎসকরা। অবশেষে মেলে সাফল্য। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অঙ্কিতা রায় বলেন, ওই এলাকায় শুকরের মাংস খাওয়ার রীতি রয়েছে। অনেক সময়ে এই ধরনের কিছু প্রাণীর মাংস থেকেও এই কৃমি মানুষের শরীরে ঢুকতে পারে। এখন শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ। সিএমওএইচ অনুরাধা দেব বলেন, ফাইলেরিয়ার ওষুধ গিলে খাবেন না, চিবিয়ে খান। ছ’মাস অন্তর প্রত্যেকের একবার করে ডি ওয়ার্মিং করা উচিত।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ