Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

অশান্ত মণিপুরে আরও ৫০ কোম্পানি আধাসেনা, হিংসার তদন্তে এনআইএ

অশান্ত মণিপুরে আরও ৫০ কোম্পানি আধাসেনা, হিংসার তদন্তে এনআইএ
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: হিংসার আগুনে জ্বলছে মণিপুর। ক্রমেই ঘোরালো হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। সোমবার রাজ্যের পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ইম্ফল পূর্ব ও পশ্চিম সহ একাধিক জেলায় জারি হয়েছে কার্ফু। উপদ্রুত এলাকায় টহল দিচ্ছে আধাসেনা। সেইসঙ্গে আরও দু’দিন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছে প্রশাসন। উত্তর-পূর্বের রাজ্যের অশান্তি মোকাবিলায় সেখানকার সরকার ও কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে বারেবারেই প্রশ্ন উঠেছে। এরইমধ্যে এদিনও মণিপুর পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর পরই হিংসা কবলিত উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যটিতে আরও ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি হিংসা সংক্রান্ত তিনটি ঘটনার তদন্তভার নিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি মামলাও দায়ের করেছে।
Advertisement
এর আগে রবিবার মণিপুর নিয়ে নর্থব্লকে আলোচনায় বসেছিলেন শাহ। এদিনের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিভাগ, আইবি, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় পুলিস বাহিনী এবং অসম রাইফেলস ও মণিপুর পুলিসের পদস্থ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন শাহ। মণিপুরে ইতিমধ্যে ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এরপর আরও ৫০ কোম্পানি বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
সোমবার সকালে কার্ফু উপেক্ষা করেই ইম্ফল পশ্চিম জেলায় একাধিক সরকারি দপ্তরের সামনে অবরোধ শুরু করে মেইতেই সংগঠন সিওসিওএমআইয়ের সদস্যরা। লামফেলপাটে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। এর ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে আইবিএসডি এবং ডাইরেক্টরেট অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড স্টাটিস্টিক্স-এর দপ্তর। সেখানেও চড়াও হয় বিক্ষোভকারীরা। 
গত রবিবার দিনের বেলায় নতুন করে কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকেই নানান জায়গায় ফের বিক্ষোভ শুরু হয়।  জিরিবাম জেলায় কংগ্রেস ও বিজেপির পার্টি অফিসে চড়াও হন বিক্ষোভকারীরা। ভাঙচুর করা হয় এক নির্দল বিধায়কের বাসভবনে। বাড়ি থেকে বের করে এনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় আসবাব, কাগজপত্র। এরইমধ্যে রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় এক যুবকের। যদিও কে গুলি চালাল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, মণিপুর পুলিসের স্পেশাল কমান্ডো বাহিনী গুলি চালায়। তাতেই মৃত্যু হয় বছর একুশের ওই যুবকের। জখম হন আরও দু’জন। সূত্রের খবর জিরিবামে রবিবার আরও একটি দেহ উদ্ধার হয়। তবে মৃতের পরিচয় জানা যায়নি।
এদিকে, রবিবার রাজ্যের বিজেপি সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছিল কনরাড় সাংমার এনপিপি। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এনডিএ বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। 
ইম্ফলে মোতায়েন অসম রাইফেলসের জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলছেন স্পিয়ার কোর-এর জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এস পেন্ধারকর। সোমবার পিটিআইয়ের তোলা ছবি।
সম্পর্কিত সংবাদ